প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
খেলাপি ঋণ আদায়ের কার্যক্রমকে ত্বরান্বিত করার পাশাপাশি আদালতে বিচারাধীন ঋণসংক্রান্ত মামলার সংখ্যা হ্রাসের জন্য বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (অল্টারনেটিভ ডিসপিউট রেজল্যুশন-এডিআর) কার্যক্রম পরিচালনার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২৬ সালে মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্তির নীতিমালা জারি করেছে। এডিআরের এই কার্যক্রমে যোগ্য ও সক্ষম প্রতিষ্ঠান যুক্ত হওয়ার ফলে খেলাপি ঋণ আদায়ের প্রক্রিয়া আরও গতিশীল হবে এবং এটি আদালতে বিচারাধীন ঋণসংক্রান্ত মামলার চাপ কমাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংক এ নিয়ে একটি নির্দেশনা জারি করে জানায় যে, ‘বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির (এডিআর) জন্য মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্তিকরণ সংক্রান্ত নীতিমালা, ২০২৬’ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে, খেলাপি ঋণ আদায় এবং ঋণসংক্রান্ত বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তিতে এডিআর পদ্ধতি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ব্যাংক পূর্বে বিআরপিডি সার্কুলার নং-১১/২০২৪ এবং বিআরপিডি-২ সার্কুলার লেটার নং-০২/২০২৬ জারি করে এডিআর-এর মাধ্যমে খেলাপি ঋণসংক্রান্ত বিরোধ ও মামলা নিষ্পত্তির জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছিল। তবে দেশের আর্থিক খাতে মধ্যস্থতা ব্যবস্থার বিস্তার ঘটানোর জন্য যোগ্যতা, সক্ষমতা ও উপযুক্ততার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্তির জন্য একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালার প্রয়োজন ছিল। সেই জন্যই নতুন এই নীতিমালা তৈরি করা হয়েছে।
নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে, এডিআর পরিচালনায় আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোকে সোসাইটিজ রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্ট, পার্টনারশিপ অ্যাক্ট অথবা কোম্পানি আইনের আওতায় নিবন্ধিত হতে হবে। অন্যদিকে, হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্স, টিআইএন এবং অন্তত তিন বছরের পেশাগত অথবা ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের দেউলিয়া, ঋণখেলাপি বা দুর্নীতির কারণে গুরুতর অপরাধে দণ্ডিত হওয়া যাবে না।
এতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, প্রতিটি তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের অন্তত পাঁচ সদস্যের একটি মধ্যস্থতাকারী প্যানেল থাকতে হবে। এই প্যানেলে অন্তত একজন হিসাববিদ ও একজন আইন বিশেষজ্ঞের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। মধ্যস্থতাকারীদের ব্যাংকিং, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, আইন, হিসাবরক্ষণ, নিরীক্ষা অথবা বিচারিক কাজে অন্তত ১০ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে এবং তারা ঋণখেলাপি বা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তি (পিইপি) হতে পারবেন না।
তালিকাভুক্তির জন্য আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানকে একটি নির্দিষ্ট কার্যালয়, মধ্যস্থতা কক্ষ, ডিজিটাল কেস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম, অনলাইন শুনানির সুবিধা, সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং তথ্য সংরক্ষণের সক্ষমতা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে স্বার্থের সংঘাত ব্যবস্থাপনা, গোপনীয়তা রক্ষা, আচরণবিধি এবং অভিযোগ নিষ্পত্তি নীতিমালা প্রণয়ন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, আবেদন মূল্যায়নে ১০০ নম্বরের স্কোরিং ম্যাট্রিক্স অনুসরণ করা হবে এবং তালিকাভুক্ত হতে ন্যূনতম ৭০ নম্বর অর্জন করতে হবে। প্রাথমিকভাবে তালিকাভুক্তির মেয়াদ হবে তিন বছর এবং মেয়াদ শেষ হওয়ার অন্তত ৯০ দিন আগে নবায়নের জন্য আবেদন করতে হবে।
নীতিমালা অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতি ক্যালেন্ডার বছরের শেষে দুই মাসের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকে বার্ষিক প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রয়োজনে এসব প্রতিষ্ঠানে পরিদর্শন পরিচালনা করতে পারবে এবং গুরুতর অনিয়ম, দুর্নীতি, মিথ্যা তথ্য প্রদান বা নীতিমালা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে তালিকাভুক্তি স্থগিত বা বাতিল করার ক্ষমতা রাখবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন