প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারের পক্ষে শুনানির জন্য স্টেট ডিফেন্স নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এই নির্দেশের অধীনে একটি ফৌজদারি বিশেষজ্ঞ আইনজীবীকে স্টেট ডিফেন্স হিসেবে নিয়োগ দিতে আইন মন্ত্রণালয়ের সলিসিটর উইংকে বলা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর নেতৃত্বাধীন হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চ এই আদেশ দেন। বিশেষ এই বেঞ্চের কার্যতালিকায় মামলাটি শুনানির জন্য রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের প্রশাসন থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন (ডেথ রেফারেন্স) এবং আসামিদের জেল আপিল শুনানির জন্য বিজি প্রেস থেকে পেপারবুক প্রস্তুত হয়ে সুপ্রিম কোর্টে এসেছে। বর্তমানে এই পেপারবুকের যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে। পেপারবুক প্রস্তুত হওয়ায় এখন যেকোনো দিন হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চে এই মামলার চূড়ান্ত শুনানি শুরু হবে।
ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী, নিম্ন আদালতে কোনো আসামির মৃত্যুদণ্ড হলে তা কার্যকরে হাইকোর্টের অনুমোদনের প্রয়োজন হয়, যা ডেথ রেফারেন্স মামলা হিসেবে পরিচিত।
এর আগে, গত ৯ জুন ঢাকার নিম্ন আদালত থেকে এই মামলার ডেথ রেফারেন্স অনুমোদনের নথি হাইকোর্টে আসে। ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন স্বাক্ষরের পর এই ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে পাঠানো হয়েছিল।
গত ৭ জুন আসামিদের উপস্থিতিতে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এই মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে মূল আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ফাঁসির আদেশ দেওয়া হয়।
ফাঁসির পাশাপাশি আদালত বিচারক আসামি সোহেল রানাকে ৫ লাখ টাকা এবং স্বপ্না আক্তারকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেন। রায়ে নির্দেশ দেওয়া হয় যে, এই অর্থদণ্ডের টাকা ভিকটিম রামিসার আইনগত উত্তরাধিকারী পাবে। আসামিরা যদি ক্ষতিপূরণ দিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে তাদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে সেই অর্থ মৃত রামিসার পরিবারকে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালতের রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, শিশুটিকে হত্যার আগে ধর্ষণ ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়া আসামি সোহেল রানা আদালতে স্বেচ্ছায় দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছিল এবং পরবর্তীতে তা প্রত্যাহারের কোনো আবেদন না করায় প্রমাণিত হয় যে অপরাধটি সে-ই ঘটিয়েছে। অন্যদিকে, তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার স্বামীকে পালাতে সহযোগিতা করেছেন। অপরাধ সংঘটনে সহযোগিতা এবং তা প্রতিরোধে কোনো ভূমিকা না রাখার বিষয়টিও আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন