প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইরানের সঙ্গে চলমান সামরিক সংঘাতকে ‘যুদ্ধ’ বলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তিনি একই সঙ্গে এ সংকটের সমাপ্তি কবে হবে এবং জ্বালানি তেলের দাম কবে যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় ফিরবে, সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করতে পারেননি। বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ভ্যান্স বলেন, বড় ধরনের সামরিক অভিযান কয়েক মাস আগে শেষ হয়েছে এবং সংঘাতের পরবর্তী পরিস্থিতি অনেকটাই ইরানের পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করছে।
প্রায় এক ঘণ্টার ব্রিফিংয়ে ভ্যান্স জানান, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো সক্রিয় গোলাগুলি হচ্ছে না। তবে তিনি স্বীকার করেন যে, বিভিন্ন এলাকায় সংঘাতের বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বড় ধরনের সামরিক অভিযান প্রায় ছয় সপ্তাহ স্থায়ী ছিল। এরপর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা, প্রতিরক্ষা শিল্প ও সামরিক সক্ষমতার ওপর হামলা চালিয়েছে।
তবে ভ্যান্সের বক্তব্যের মধ্যেই চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে। হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। ইরানের হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
সংঘাত কবে শেষ হবে—এ প্রশ্নের জবাবে ভ্যান্স নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা দিতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি বলেন, ইরান যদি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধ করে, তবে পরিস্থিতি বদলাতে পারে। তাঁর দাবি, যুক্তরাষ্ট্র কৃত্রিম কোনো সময়সীমা নির্ধারণ করবে না; বরং ইরানের পদক্ষেপের ভিত্তিতে পরবর্তী কৌশল ঠিক করা হবে।
হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বিশ্ববাজারে তেলের দামও বেড়েছে। বৃহস্পতিবার ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৫ ডলারের ওপরে ছিল, যা কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি।
সম্প্রতি ইরানের সিরিক এলাকায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন হামলার অভিযোগের বিষয়েও তদন্ত চলছে বলে জানান ভ্যান্স। ইরানের কর্মকর্তাদের দাবি, ওই হামলায় পাঁচজন নিহত ও প্রায় ৭০ জন আহত হয়েছেন। ভ্যান্স বলেন, মার্কিন বাহিনী বেসামরিক নাগরিকদের ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু বানায় না এবং ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে।
ভ্যান্স আরও জানান, বর্তমানে তেহরানের সঙ্গে কোনো কূটনৈতিক আলোচনা চলছে না। বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত ওয়াশিংটন আলোচনায় বসবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক থাকে—এ দুটিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য হিসেবে তুলে ধরেন তিনি। তথ্যসূত্র: রয়টার্স, সিএনএন
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন