প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সুনামগঞ্জ-সিলেট মহাসড়কের ওয়েজখালী এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাওয়া একটি পচা দুর্গন্ধযুক্ত কুকুরের দেহ নিজ হাতে মাটিচাপা দিয়ে মানবতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ, পিপিএম।
মঙ্গলবার ( ১১ আগস্ট) সকালে এই মানবিক ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় একদিন আগে ওয়েজখালী এলাকায় যানবাহনের সাথে ধাক্কা লেগে একটি কুকুরের মৃত্যু হয়। মৃত কুকুরটি ব্যস্ত সড়কের ওপর পড়ে থাকায় প্রচণ্ড গরমে পচে গিয়ে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল। এ সময় রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী পথচারীরা নাকে হাত দিয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করছিলেন। দীর্ঘক্ষণ ধরে সড়কে মৃতদেহটি পড়ে থাকলেও কেউ তা অপসারণের কোনো উদ্যোগ নেননি।
আজ সকালে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি রতন শেখ সিভিল ড্রেসে একটি বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযানে রওয়ানা দিয়েছিলেন। পথিমধ্যে ওয়েজখালী এলাকায় পৌঁছালে সড়কের ওপর জটলা এবং দুর্গন্ধের বিষয়টি তার চোখে পড়ে। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি গাড়ি থামিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে নামেন।
সড়কে মৃত কুকুরটির করুণ অবস্থা দেখে তিনি বিন্দুমাত্র দ্বিধা না করে নিজের অভিযানে যাওয়া অফিসার ও সঙ্গীয় ফোর্সকে সাথে নিয়ে গাড়ি থেকে নেমে পড়েন। এরপর কাউকেই ডেকে কোনো নির্দেশ না দিয়ে তিনি নিজেই এগিয়ে যান এবং পরম মমতায় নিজ হাতে মৃত কুকুরটিকে তুলে সড়কের পাশের একটি নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান। পরে সেখানে মাটি খুঁড়ে কুকুরটিকে সসম্মানে মাটিচাপা দেন তিনি।
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি রতন শেখ পিপিএম বলেন,পুলিশ শুধু অপরাধ দমন বা আইন শৃঙ্খলা রক্ষা করার জন্যই নয়, মানুষের পাশাপাশি যেকোনো মুক ও বধির প্রাণীর প্রতিও আমাদের সমান দায়িত্ব রয়েছে। রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় দেখলাম একটি মৃত কুকুর পচে গিয়ে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল এবং সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছিল। একজন মানুষ ও পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে এটি আমার নৈতিক দায়িত্ব মনে করেছি। কোনো জীব মারা যাওয়ার পরও যেন এভাবে অবহেলায় পড়ে না থাকে এবং পরিবেশ দূষিত না হয়, সেটির প্রতি আমাদের সবারই সচেতন হওয়া উচিত।
পুলিশের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার এমন মানবিক ও নজিরবিহীন উদ্যোগ দেখে উপস্থিত স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও পথচারীরা অভিভূত হন। সাধারণ পথচারী ও স্থানীয়রা জানান, একজন পুলিশ কর্মকর্তা হয়েও সড়কের পরিবেশ রক্ষা এবং মৃত একটি প্রাণীর প্রতি এমন সংবেদনশীল আচরণ সত্যিই প্রশংসনীয়। ওসি রতন শেখের এই মহৎ কাজ এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং সর্বস্তরের মানুষের মাঝে প্রশংসিত হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন