প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারী বর্ষণ, ধস এবং প্লাবনের কারণে ভারতের উত্তর ও পশ্চিম অংশ সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গত বৃহস্পতিবারেই বৃষ্টিজনিত বিভিন্ন দুর্ঘটনায় অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। একের পর এক বাড়ি ভেঙে পড়া, উপড়ে যাওয়া গাছ এবং জলমগ্ন রাস্তার কারণে জনজীবন কার্যত স্তব্ধ হয়ে গেছে।
রাজধানী দিল্লি এখন সম্পূর্ণরূপে পানির তলায় রয়েছে। বৃহস্পতিবার, উত্তর-পূর্ব দিল্লির তুখমিরপুরে ১৬০ মিলিমিটার এবং ময়ূর বিহারে ১০৩ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। ঝোড়ো হাওয়ার কারণে গাছ উপড়ে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে গিয়েছে, যার জেরে বহু এলাকা দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুৎহীন ছিল। রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়ায় নিত্যযাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। আবহাওয়া দফতর আগামী শনিবার পর্যন্ত দিল্লিতে বৃষ্টির পূর্বাভাস বজায় রাখার কথা জানিয়েছে।
এদিকে, উত্তর ভারতের পাহাড়ি রাজ্যগুলির অবস্থা আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। উত্তরাখণ্ডের অলকানন্দা ও মন্দাকিনী নদী বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে। ডোবা নেমে গঙ্গোত্রী জাতীয় সড়ক বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে চারধাম যাত্রা ব্যাহত হয়েছে। হিমাচল প্রদেশে ভারী বৃষ্টির কারণে অন্তত ৭৫টি রাস্তা বন্ধ রয়েছে। উত্তরপ্রদেশের নদীগুলি ফুলেফেঁপে ওঠায় বন্যা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সেখানে বজ্রপাত ও দেয়াল ধসে এক শিশুসহ বেশ কয়েকজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে রুদ্রপ্রয়াগ, গাজিয়াবাদ ও মিরাটসহ বেশ কিছু এলাকার সমস্ত স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।
পশ্চিম ভারতের মহারাষ্ট্র ও গুজরাটেও বৃষ্টির দাপট অব্যাহত রয়েছে। মুম্বাইয়ের কোলাবা ও সান্তাক্রুজে স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ৮০ থেকে ৯৪ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। কারজাট-লোনাভলা ঘাট বিভাগে ধস নামার কারণে সেন্ট্রাল রেলওয়ে মুম্বই, পুণে ও হায়দারাবাদগামী প্রায় ১৮টি ট্রেন বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে। ১ জুন থেকে এ পর্যন্ত মহারাষ্ট্রে বৃষ্টিজনিত দুর্ঘটনায় ৬২ জনের মৃত্যু হয়েছে।
অন্যদিকে, গুজরাটের সুরাতে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৫৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হওয়ায় শহরের একটি বড় অংশ জলের তলায় তলিয়ে গেছে। জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী এবং দমকল কর্মীরা নৌকা করে ইতিমধ্যে ছয় হাজারেরও বেশি মানুষকে উদ্ধার করে ত্রাণ শিবিরে পাঠিয়েছে। দক্ষিণ ভারতের কেরালাতেও পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক, যেখানে ওয়েনাদে ধস নেমে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে এবং নিখোঁজদের সন্ধানে এখনও উদ্ধারকারী দল তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন