প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নরসিংদীর আবদুল কাদির মোল্লা সিটি কলেজের সঙ্গে বৃষ্টির এক অদ্ভুত সম্পর্ক যেন সাফল্যের বার্তা নিয়ে আসে। ২০১২, ২০১৩ ও ২০১৪ সালে ফল প্রকাশের দিন বৃষ্টির মধ্যে কলেজটি ঢাকা বোর্ডে এবং সারা দেশে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছিল। তাই শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে বৃষ্টি শুরু হলে কলেজের সংশ্লিষ্টদের মনে ভালো ফলের প্রত্যাশা জেগে ওঠে।
দুপুরে সেই প্রত্যাশা সত্যি হয়ে ওঠে। আবদুল কাদির মোল্লা সিটি কলেজ আবারও দেশসেরা ফলাফল অর্জন করে সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে।
শনিবার প্রকাশিত উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফলে, কলেজ থেকে অংশ নেওয়া ১ হাজার ৫৫২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১ হাজার ৫৫১ জন পাস করেছে। পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৯৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫৬১ জন।
কলেজের সূত্রে জানা যায়, বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ১ হাজার ৫৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৯৪ জন। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে ১৮০ জন অংশ নিয়ে শতভাগ পাসের পাশাপাশি জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬৯ জন। মানবিক বিভাগ থেকে ৩১১ জন অংশ নিয়ে শতভাগ পাস করেছে এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯৮ জন।
একজন শিক্ষার্থী সাতটি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার পর অসুস্থ হয়ে পড়ায় পরবর্তী পরীক্ষাগুলোতে অংশ নিতে পারেননি। এ কারণে একজন অকৃতকার্য হওয়ায় কলেজটি শতভাগ পাসের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কলেজে ফল পৌঁছালে তা নোটিশ বোর্ডে টাঙিয়ে দেওয়া হয়। ভালো ফল নিশ্চিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বৃষ্টি উপেক্ষা করে কলেজ মাঠে উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠে শিক্ষার্থীরা। তারা গানের তালে বৃষ্টিতে ভিজে নেচে-গেয়ে সাফল্য উদযাপন করে। সন্তানের সাফল্যে আনন্দে চোখ ভিজে ওঠে অভিভাবকদেরও। আনন্দের এই আয়োজনে কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও গভর্নিং বডির সভাপতি আবদুল কাদির মোল্লা, অধ্যক্ষ ও শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।
বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী বিথী রায় বাবার সঙ্গে মিষ্টি নিয়ে কলেজে ফল উদযাপন করতে আসেন। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, “দুই বছর ধরে ভালো ফলাফলের জন্য কঠোর পরিশ্রম করেছি। কলেজের নিয়ম-শৃঙ্খলা, কঠোর মনিটরিং ও বিভিন্ন উদ্যোগের কারণে পড়ালেখায় ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ ছিল না। রাজধানীর নামীদামি কলেজের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে আমরা ভালো ফল করতে পেরেছি। এর পেছনে শিক্ষক ও অভিভাবকদের সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধান রয়েছে।”
বিথীর বাবা বাবুল রায় বলেন, “ভালো ফলাফলের জন্য এই কলেজের সুনাম সারা দেশে রয়েছে। শিক্ষকদের নির্দেশনায় আমার মেয়ে কঠোর পরিশ্রম করেছে। জিপিএ-৫ পাওয়ায় বাবা হিসেবে আমি গর্বিত ও খুব খুশি।”
কলেজের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আনিসুর রহমান বলেন, “আমাদের ভালো ফলাফলের যেন এক ধরনের পূর্বাভাস প্রকৃতির মাধ্যমেই পাওয়া যায়। এর আগে আমরা যখন ঢাকা বোর্ডে দ্বিতীয় হয়েছিলাম, তখনও সকাল থেকে বৃষ্টি ছিল। আজকের বৃষ্টিও ভালো ফলের আশা জাগিয়েছিল। দেশসেরা ফলাফলের মাধ্যমে তার প্রতিফলন পেয়েছি।”
কলেজের অধ্যক্ষ হেরেম উল্লাহ আহসান বলেন, “আমাদের কঠোর পরিশ্রম ও শৃঙ্খলাই এই সাফল্যের মূলমন্ত্র। আবদুল কাদির মোল্লার সরাসরি নির্দেশনায় নিয়মিত ও বিশেষ ক্লাস, হোম ভিজিট, টিউটোরিয়াল, মাসিক পরীক্ষা এবং গাইড শিক্ষকের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধান করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, একজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পরবর্তী পরীক্ষাগুলোতে অংশ নিতে না পারায় কলেজটি শতভাগ পাস থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও গভর্নিং বডির সভাপতি আবদুল কাদির মোল্লা বলেন, “প্রথমেই মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। এটি নরসিংদীবাসীর অর্জন। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা দীর্ঘদিন ধরে এই ফলাফলের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পেরেছি। এই ফল কোনো জাদুর কাঠির ফল নয়, এটি সবার পরিশ্রমের ফসল।”
প্রসঙ্গত, ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর ২০০৮ সালে প্রথমবার উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ৯৯ শতাংশ পাসের হার অর্জন করে প্রতিষ্ঠানটি। ২০০৯ সালে শতভাগ পাসসহ ঢাকা বোর্ডে পঞ্চম এবং সারা দেশে ষষ্ঠ, ২০১০ সালে ঢাকা বোর্ডে চতুর্থ এবং ২০১১ সালে সপ্তম হয় কলেজটি।
২০১২, ২০১৩ ও ২০১৪ সালে শতভাগ পাসসহ ঢাকা বোর্ড তথা সারা দেশে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে প্রতিষ্ঠানটি। পরবর্তীতে শিক্ষা বোর্ড সেরাদের তালিকা প্রকাশ বন্ধ করলেও ২০১৫ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ভালো ফলাফলের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে কলেজটি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন