প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দেশটির নতুন সরকার মস্কোর সঙ্গে সিরিয়ার রাশিয়ার দুটি সামরিক ঘাঁটির ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে। উক্ত ঘাঁটিগুলি আগে ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে সামরিক সহায়তা প্রদানে প্রতিবন্ধকতা ছিল রাশিয়ার জন্য।
রবিবার আল জাজিরার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সিরিয়ার সরকারি সংবাদ সংস্থা সানার বরাত দিয়ে এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
নতুন সমঝোতা অনুসারে, সিরিয়ার হেমেইমিম বিমানঘাঁটি এবং তারতুস নৌঘাঁটি এখন থেকে ‘যৌথ প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বাড়ানোর কেন্দ্র’ হিসেবে কাজ করবে। দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষার লক্ষ্যেই এই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, এমনটিই জানিয়েছে সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আলোচনার মাধ্যমে প্রায় ১৮ মাস পর দুই পক্ষ এই সমঝোতা স্মারক চূড়ান্ত করেছে।
সমঝোতা অনুযায়ী নতুন ব্যবস্থা কার্যকর করতে সর্বোচ্চ তিন মাসের সময়সীমা রয়েছে। এই সমঝোতা কার্যকর করার মধ্যবর্তী সময়সীমায় দুই ঘাঁটিতে অবস্থিত বেসামরিক স্থাপনাগুলো সিরিয়ার সরকারি কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তবে নতুন ব্যবস্থার আওতায় রাশিয়ার সামরিক উপস্থিতির প্রকৃতি কী হবে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। রুশ পক্ষের তরফ থেকেও এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
আলোচনার পুরো সময় কে হেমেইমিম বিমানঘাঁটি এবং তারতুস নৌঘাঁটি সচল ছিল।
এছাড়া রবিবার সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শাইবানি হেমেইমিম ও তারতুসের স্থাপনাগুলো পরিদর্শন করেন। সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারকে অন্তর্ভুক্ত স্থাপনা ও অবকাঠামোগুলো দেখতে তিনি এখানে এসেছিলেন। তাকে এই পরিদর্শনকে দুই দেশের নতুন সম্পর্কের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
সিরিয়ার ১৩ বছরের গৃহযুদ্ধের সময় বাশার আল-আসাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মিত্র ছিল রাশিয়া। আসাদ সরকারের ক্ষমতা ধরে রাখতে রাশিয়া সামরিক সহায়তা প্রদান করেছে। বিশেষ করে হেমেইমিম বিমানঘাঁটি ও তারতুস নৌঘাঁটি থেকে রাশিয়া সিরিয়ায় নিজেদের সামরিক কার্যক্রম পরিচালনা করত। তবে ২০২৪ সালে আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর সিরিয়ার পরিস্থিতির ব্যাপক পরিবর্তন ঘটেছে।
আসাদের পতন মধ্যপ্রাচ্যে রাশিয়ার দীর্ঘদিনের কৌশলগত অবস্থানে বড় ধাক্কা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আসাদ ক্ষমতা হারালে রাশিয়া সিরিয়ায় তাদের সামরিক উপস্থিতি পুরোপুরি ধরে রাখতে পারবে কি না, সেই বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
আসাদের পতনের পর রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সিরিয়ার নতুন নেতা আহমেদ আল-শারার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন। এর অন্যতম লক্ষ্য সিরিয়ায় রাশিয়ার দুটি সামরিক ঘাঁটির ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা। সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের মহলবৃত্তে এই দুটি ঘাঁটি রাশিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সামরিক স্থাপনা। ক্ষমতার পরিবর্তনের পরে পুতিন মস্কোতে আহমেদ আল-শারাকে দুইবার গ্রহণ করেছেন বলে আল জাজিরা জানিয়েছে। জানুয়ারিতে শারারের পূর্ববর্তী মস্কো সফরের সময় পুতিন বলেছিলেন, রাশিয়া ও সিরিয়ার সম্পর্ক পুনরুদ্ধারে অনেক কাজ হয়েছে। সিরিয়ার ভৌগোলিক অখণ্ডতা পুনরুদ্ধারে শারারের উদ্যোগেরও প্রশংসা করেছেন তিনি।
আহমেদ আল-শারাও রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তিনি সিরিয়া ও বৃহত্তর অঞ্চলে রাশিয়ার ‘ঐতিহাসিক ভূমিকার’ প্রশংসা করেছেন। তবে একই সঙ্গে দামেস্ক দীর্ঘদিন ধরে রাশিয়ার কাছে বাশার আল-আসাদকে সিরিয়ার হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে। আসাদ ক্ষমতা হারানোর পর থেকে রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতেই অবস্থান করছেন। স্ত্রীকে নিয়ে সেখানে আশ্রয় গ্রহণ করেছেন।
ফলে সম্প্রতি আসাদকে নিয়ে সিরিয়া ও রাশিয়ার মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে সামরিক ও কৌশলগত স্বার্থের কারণে দুই দেশ সম্পর্ক ধরে রাখার চেষ্টা করছে। হেমেইমিম বিমানঘাঁটি ও তারতুস নৌঘাঁটি সিরিয়ায় রাশিয়ার সামরিক উপস্থিতির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। আসাদ সরকারের সময়ে এসব ঘাঁটি রাশিয়ার মৌলিক কৌশলগত সুবিধা সৃষ্টি করেছিল।
নতুন সমঝোতায় ঘাঁটি দুটিকে যৌথ প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বাড়ানোর কেন্দ্রে পরিণত করার সিদ্ধান্ত দুই দেশের সম্পর্কের নতুন পর্যায়কে সামনে এনেছে, তবে এই ব্যবস্থায় রাশিয়ার সামরিক উপস্থিতি ঠিক কতটা থাকবে এবং ঘাঁটি দুটির নিয়ন্ত্রণ কিভাবে পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তিন মাসের মধ্যে নতুন ব্যবস্থা কার্যকর করার প্রক্রিয়া শুরু হবে। এর আগে দুই ঘাঁটিতে থাকা বেসামরিক স্থাপনাগুলো সিরিয়ার সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন