প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সিরিয়ার সাবেক এক জেনারেল ও সাবেক এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ও নির্যাতনের অভিযোগে নির্ধারিত মামলার রায় সোমবার ভিয়েনায় ঘোষণা করা হতে পারে বলেও জানা গেছে। আদালতে অভিযোগ রয়েছে যে, তারা বাশার আল-আসাদের শাসনবিরোধীদের নির্যাতনে জড়িত ছিলেন।
এটি সিরিয়ার গৃহযুদ্ধকালীন অপরাধের অভিযোগে ইউরোপের আদালতগুলোতে চলমান বিচারের একটি অংশ, যা 'ইউনিভার্সাল জুরিসডিকশন' নামে পরিচিত একটি আইনি ব্যবস্থার মাধ্যমে সম্ভব হয়েছে। এই আইনি ব্যবস্থায়, কোনো গুরুতর আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচারের কাজ সেই দেশে করা সম্ভব, যেখানে অপরাধ সংঘটিত হয়নি। খবরটি পরিবেশন করেছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
৬৩ বছর বয়সী খালেদ আল-হালাবি, যিনি সিরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার একজন সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল, ২০২৪ সাল থেকে বিচার-পূর্ব আটক রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে নির্যাতন, গুরুতর জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায়, যৌন নির্যাতন এবং একাধিক গুরুতর শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
অন্যদিকে, ৫৪ বছর বয়সী মুসাব আবু রুকবা, সাবেক স্থানীয় পুলিশ লেফটেন্যান্ট কর্নেল, যার বিরুদ্ধে গুরুতর শারীরিক নির্যাতন, জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায় এবং যৌন নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। এই অভিযোগগুলো ২০১১ সালের এপ্রিল থেকে ২০১৩ সালের মার্চের মধ্যে রাকা শহরের ঘটনার সাথে সম্পর্কিত।
মামলার শুরুতে উভয় আসামি নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন। তাদের সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে বলেও জানানো হয়েছে। ফ্রান্স, জার্মানি, সুইডেন এবং বেলজিয়ামেও সিরিয়ার যুদ্ধকালীন অপরাধের অভিযোগে এ ধরনের আরও বিচারের খবর রয়েছে।
অস্ট্রিয়ার প্রসিকিউটররা অভিযোগ করেছেন যে, এই দুই ব্যক্তি 'বারবার নির্যাতনের নির্দেশ দিয়েছেন বা তা ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছেন' এবং তারা বিরোধী আন্দোলনের সদস্যদের ওপর নির্যাতনের জন্য দায়ী। আল-হালাবি, দ্রুজ সম্প্রদায়ের সদস্য, ২০১৩ সালে রাকা শহর আইএসের দখলে যাওয়ার ঠিক আগে দেশ ত্যাগ করেন এবং আদালতে দাবি করেন, তার কমান্ডে কোনো নির্যাতন হয়নি।
তবে একাধিক বন্দি আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন, যে তারা এই দুই ব্যক্তির দায়িত্বে ছিল যখন কঠোরভাবে মারধরের শিকার হন। একজন সাক্ষীর বক্তব্য হচ্ছে, তিনি এখনো আতঙ্কিত। তিনি জানান, জিজ্ঞাসাবাদের সময় আল-হালাবি তার পায়ের তলায় বৈদ্যুতিক তার দিয়ে মারধর করেছেন।
অন্য বন্দিরা বলেছেন, তাদের অত্যন্ত সংকীর্ণ ও অস্বাস্থ্যকর কক্ষে রাখা হয়েছে। একজন বলেন, তাকে আট বা নয় দিন নগ্ন অবস্থায় থাকতে হয় এবং বারবার তার ওপর ঠান্ডা পানি ঢালা হতো। রাষ্ট্রপক্ষ বলেছে যে, হালাবি দামেস্ক সরকারের কাছ থেকে 'সরাসরি নির্দেশ' পেতেন এবং মারধর ও জলকামান ব্যবহারের মতো 'সুনির্দিষ্ট নির্যাতন পদ্ধতি' প্রয়োগ করে 'পরিকল্পিতভাবে' সহিংসতা চালাতেন। এই দুই সিরীয় নাগরিক ২০১৫ সালে অস্ট্রিয়ায় আশ্রয়ের জন্য আবেদন করেছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন