প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার হুমকি দিয়ে ইরানের রাজধানী তেহরানের কেন্দ্রস্থলে একটি বিশাল বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে।
বিলবোর্ডে ট্রাম্পকে একটি খোলা কফিনে শায়িত অবস্থায় দেখা যাচ্ছে। কফিনের গায়ে ফারসি ও ইংরেজি ভাষায় লেখা রয়েছে, ‘উই উইল কিল ট্রাম্প’ (আমরা ট্রাম্পকে হত্যা করব)।
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বিলবোর্ডটির পাশে আলী খামেনির একটি বিশাল মুষ্টিবদ্ধ হাতের ভাস্কর্য রয়েছে। এটি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের শুরুতে বিমান হামলায় নিহত এই নেতাকে কেন্দ্র করে শোক ও প্রতিশোধের প্রতীকী বার্তা তুলে ধরে।
বিলবোর্ডে কালো রঙের খোলা কফিনে ট্রাম্পকে এলোমেলো চুল, বন্ধ চোখ ও মুখে দেখা গেছে। লাল টাইয়ের ওপর রাখা দুই হাত এবং কফিনের ওপরে সোজা উঁচু হয়ে থাকা দুই পা ছবিটিকে আরও প্রতীকী করেছে।
কফিনের ওপর সাদা অক্ষরে লেখা রয়েছে ‘উই উইল কিল ট্রাম্প’। একই সঙ্গে ফারসি ভাষায় শহীদ আলী খামেনিকে স্মরণ করেছে এমন বিভিন্ন বার্তা লেখা হয়েছে।
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বিলবোর্ডে মিনাবের শিশুদের স্মরণে লেখা একটি বার্তাও রয়েছে। দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরে যুদ্ধের শুরুতে এক বিমান হামলায় ১৬৮ জন শিশু প্রাণ হারায়।
ইরানে জনপরিসরকে রাজনৈতিক বার্তা প্রচারের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করার বিষয়টি নতুন নয়। তবে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর রাজধানীর ব্যস্ততম সড়কে যুদ্ধ, শহীদদের স্মরণ এবং বিভিন্ন আদর্শিক বার্তা নিয়ে অসংখ্য বড় বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। এসব বিলবোর্ডকে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বৃহত্তর রাজনৈতিক ও আদর্শিক প্রচারকৌশলের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ট্রাম্পবিরোধী এই ধরনের বিলবোর্ড নতুন নয়। গত মে মাসে একটি দ্বিভাষিক বিলবোর্ডে ট্রাম্পের মুখের ওপর হরমুজ প্রণালির প্রতীকী চিত্র বসিয়ে তার ঠোঁট সেলাই করা অবস্থায় দেখা হয়েছিল। সেখানেও ইংরেজিতে লেখা ছিল ‘দ্য ব্রেকিং পয়েন্ট’।
আরেকটি বিলবোর্ডে পারস্য উপসাগরের ওপর বিশাল একটি মাছ ধরার জালে মার্কিন যুদ্ধবিমান, ড্রোন ও নৌযান আটকা পড়ার চিত্র তুলে ধরা হয়েছিল। এর মাধ্যমে মূলত ইরানের সামরিক সক্ষমতার বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল।
কিন্তু এই বিলবোর্ডটির ভাষা আগেরগুলোর তুলনায় একটু ভিন্ন, অনেক বেশি উসকানিমূলক ও আক্রমণাত্মক। বিশেষত গত কয়েক সপ্তাহে ইরানের রক্ষণশীল মহলে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় নিহত আলী খামেনিসহ অন্যান্য নেতাদের হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার দাবি জোরালো হয়েছে।
সম্প্রতি ইরানের একটি রক্ষণশীল সংবাদপত্রে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি হত্যার প্রতিশোধের লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ১৩ জন বিদেশি নেতার একটি তালিকা প্রকাশ করে। উক্ত তালিকায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারসহ বিভিন্ন পশ্চিমা নেতার ছবি রয়েছে।
এছাড়াও, বাবার দাফনের দুই দিন পর দেওয়া প্রথম বার্তায় ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেন। তিনি লিখিত ওই বার্তায় জানান যে, এই প্রতিশোধের আকাঙ্ক্ষা কেবল তার বা সরকারের নয়, বরং পুরো ইরানি জাতির দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ইচ্ছার প্রতিফলন। তিনি জোর দেন যে, এ প্রতিশোধ অবশ্যম্ভাবীভাবে বাস্তবায়িত হবে এবং তার বাবার হত্যার প্রতিশোধ নেওয়া হবেই।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন