প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
অবৈধভাবে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা বর্জ্য সংগ্রহের কাজটি একাকী শুরু করেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনের দক্ষিণাঞ্চলে একা একাই অবৈধভাবে ফেলা আবর্জনা পরিষ্কারের অভিযানে নেমেছিলেন। কিন্তু এখন ৩৭ বছর বয়সী অ্যান্ডু বিভারকে একা কাজ করতে হয় না। তার এই মহতী উদ্যোগের জন্য অনুপ্রাণিত হয়ে বর্তমানে অন্তত ১০০ জন স্বেচ্ছাসেবক তার সাথে হাত মিলিয়েছেন।
বিজ্ঞানের কোন বাণিজ্যিক বা অলাভজনক প্রতিষ্ঠান চালানোর অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও, বিভার পরিবেশকে দূষণমুক্ত রাখার তাগিদ থেকে ‘ক্লিন দ্য ব্লক’ নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গড়ে তুলেছেন। অ্যান্ডু বিভার তার অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, 'ছোটবেলা থেকেই দেখে এসেছি যত্রতত্র আবর্জনা ফেলা কতটা বাজে অভ্যাস। নিজেদের চারপাশ পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব আমাদেরই নিতে হবে।'
অনলাইন টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি হিউস্টনের সানিসাইড এলাকায় এই সংগঠনের উদ্যোগে একটি পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হয়েছে। ভারী গ্লাভস ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম হাতে নিয়ে প্রায় ১০০ জন স্বেচ্ছাসেবক এ অভিযানে অংশগ্রহণ করেছেন। সংকীর্ণ গলি থেকে শুরু করে হাঁটার রাস্তা, খাল এবং পরিত্যক্ত জমিগুলোর ময়লা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে অপসারণ করেছেন তারা। স্থানীয় 'সোলে টাইস রান ক্লাব' নামের একটি দৌড়বিদ সংগঠনের সাথে অংশীদারত্ব ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচারণায় উদ্যোগটি দ্রুত ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছে।
সংগৃহীত বিশাল পরিমাণ বর্জ্য অপসারণে বড় বড় ট্রাক ব্যবহার করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনের নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ ব্যবস্থা ঘাটতির কারণে সাধারণ মানুষ যে ভোগান্তিতে পড়তেন, এই উদ্যোগ তা দূর করতে অনেকটাই স্বস্তি ফিরিয়ে দিয়েছে। শুরুর দিকে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু জটিলতা দেখা দিলেও, বর্তমানে হিউস্টন সিটি কাউন্সিল তাদের লজিস্টিক সহায়তার পাশাপাশি বিশেষ 'হট টিম' বড় বর্জ্য সরানোর কাজে নিয়োজিত করছে।
এছাড়া, অবৈধভাবে ময়লা ফেলা বন্ধ করতে স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে। পুলিশ সুনির্দিষ্ট তথ্য, গোপন ক্যামেরা এবং টহল জোরদারের মাধ্যমে অপরাধীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করছে। টেক্সাসের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী নির্ধারিত স্থানের বাইরে আবর্জনা ফেলা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এর দায়ে জরিমানা বা জেল হতে পারে। সব প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও শহরের পরিবেশ সুরক্ষায় নিজের এই সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে অ্যান্ডু বিভার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন