প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ থেকে ব্রাজিলের বিদায়ের পর, বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি নিজেকে আর্জেন্টিনার সমর্থক হিসেবে পরিচয় দিলেও, ব্রাজিলের বিদায়ে সবচেয়ে বেশি কষ্ট পেয়েছেন তারকা ফুটবলার নেইমারের জন্য। এ ছাড়া, ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তির দল নির্বাচন এবং দীর্ঘ সময় নেইমারকে বেঞ্চে বসিয়ে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েও তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। মন্তব্য করেছেন ক্লাবের বসকে নিয়েও।
সোমবার (৬ জুলাই) ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে মাশরাফি লিখেছেন, "শুধু নেইমারের জন্য মনটা ভীষণ খারাপ হচ্ছে।" তিনি উল্লেখ করেছেন, "হয়তো আর বিশ্বমঞ্চে দেখা হবে না তাকে।" ব্রাজিলের হয়ে সবচেয়ে বেশি গোলের মালিক নেইমারকে এভাবে বেঞ্চে বসে থাকতে দেখে খুবই বিরক্ত লেগেছে মাশরাফির।
বিশ্বকাপের শুরুতে কার্লো আনচেলত্তির ঘোষিত দলে জায়গা পেলেও, প্রথম দুই ম্যাচে মাঠে নামার সুযোগ পাননি নেইমার। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ দিকে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন তিনি। এর পরিপ্রেক্ষিতে, জাপানের বিপক্ষে নকআউট পর্বের ম্যাচেও খেলবার সুযোগ হয়নি নেইমারের। তিনি নরওরের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচেও ৬৮ মিনিট পর্যন্ত বেঞ্চে ছিলেন।
মাশরাফির মতে, "আরও বেশি সময় পেলে হয়তো ম্যাচের গল্পটা অন্যরকমও হতে পারত।" পোস্টে নেইমারের ফুটবলীয় সামর্থ্যের জন্যও তিনি ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তার ভাষ্য, "নেইমারের মতো ড্রিবলারের খুব কমই দেখা যায়।" বল নিয়ন্ত্রণ, নিখুঁত পাস কিংবা পেনাল্টি নেওয়ার দক্ষতা সব দিক থেকেই তিনি ছিলেন অসাধারণ। তবে নানা কারণে তার ক্যারিয়ার যে উচ্চতায় পৌঁছাতে পারত, বাস্তবে সেটির কাছাকাছিও যেতে পারেননি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ব্রাজিলের বিদায়ের পর নেইমারের আবেগঘন মুহূর্তও তাকে স্পর্শ করেছে জানিয়ে মাশরাফি লিখেছেন।
ব্রাজিলের বিদায়ের ম্যাচে মাশরাফি আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন। নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে দুটি পেনাল্টির সুযোগ পেও সেলেসাওরা সেগুলোর পুরো সুবিধা নিতে পারেনি। বিশেষ করে, ম্যাচের ১৩তম মিনিটে ব্রুনো গুইমারেসের স্পট কিক থেকে গোল করতে না পারাকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন। শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলের হারেই বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয় ব্রাজিলের।
তবে পেনাল্টি মিসকে খেলার স্বাভাবিক অংশ হিসেবেই দেখছেন মাশরাফি। তিনি জানান, "পেনাল্টি পাওয়া যেমন খেলার অংশ, তেমনি সেটি মিস করাও খেলার অংশ।" তাই শুধুমাত্র পেনাল্টি পেলেই কোনো দল বিশ্বকাপ জিতে যাবে, এমন ধারণা সঠিক নয়। উদাহরণ হিসেবে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালের কথাও তুলে ধরেন তিনি। সেই ম্যাচে ফ্রান্স দুটি পেনাল্টি পেলেও, শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে আর্জেন্টিনার কাছে শিরোপা হারিয়েছে।
এ প্রসঙ্গে মাশরাফি লিখেন, "দুটি পেনাল্টি পেয়েও হেরে গেল ব্রাজিল।" বিগত চার বছর এই পেনাল্টি নিয়ে যারা চিল্লাপাল্লা করেছে, আজ সেই পেনাল্টিই তাদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়াল। পেনাল্টি খেলারই অংশ এবং আবার মিস করাও খেলার অংশ; এটা ভুলে গেলে হবে না। এমন নয় যে, পেনাল্টি পেলেই কেউ বিশ্বকাপ জিতে যাবে। কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে ফ্রান্স দুটি পেনাল্টি পেয়েছিল, তারপরও সহজ গোল মিস করে টাইব্রেকারে হেরেছে। যাক, কোনো ব্যাপার না। ব্রাজিল ভক্তদের জন্য রইল সমবেদনা। হেক্সা হবেই, এবার হয়নি, তবে...
ব্রাজিল সমর্থকদের উদ্দেশে সমবেদনাও জানিয়েছেন মাশরাফি। একই সঙ্গে, ভবিষ্যতে ব্রাজিল আবারও বিশ্বকাপ জিতবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। তবে আর্জেন্টিনার সমর্থকদের মানসিক দৃঢ়তার কথাও উল্লেখ করেন সাবেক এই অধিনায়ক। তিনি লিখেন, "আমরা যারা আর্জেন্টিনা ভক্ত, তাদের কাছ থেকে মানসিক শক্তি নিতে পারো।" কারণ, এই কষ্ট আমাদের থেকে আর কেউ ভালো জানে না। ৩৬টা বছর যেন-তেন বিষয় নয়। তিনি নিশ্চিত করেন, "আমি তো বলি, পৃথিবীর সবচেয়ে লয়্যাল সমর্থক একমাত্র আমরাই।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন