প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ব্রিটেনের রাজনীতিতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো, যেখানে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির নেতা অ্যান্ডি বার্নহ্যাম দেশের ৫৯তম সরকারপ্রধান হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন।
রাজনৈতিক দায়িত্ব গ্রহণের পর, অ্যান্ডি বার্নহ্যাম তার প্রথম ভাষণে জীবনযাত্রার ব্যয়সংকট মোকাবেলায় আগামীকাল (২১ জুলাই ২০২৬) থেকে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ঘোষণা করেন।
সোমবার (২০ জুলাই) ডাউনিং স্ট্রিটের বাইরে প্রবেশ করে জনগণের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করে তিনি বলেন, এই পদক্ষেপগুলো সাধারণ মানুষের জন্য কিছুটা স্বস্তির কারণ হবে।
ব্রিটেনের সাংবিধানিক রীতি অনুযায়ী, রাজা তৃতীয় চার্লস তাকে সরকার গঠনের জন্য আমন্ত্রণ জানান। বাকিংহাম প্রাসাদে আনুষ্ঠানিকতার পর, বার্নহ্যাম ডাউনিং স্ট্রিটে ফিরে এসে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
দায়িত্ব গ্রহণের পর জাতির উদ্দেশে দেওয়া প্রথম বক্তব্যে বার্নহ্যাম, যিনি উত্তর ইংল্যান্ডের মানুষের কাছে 'কিং অব দ্য নর্থ' নামে পরিচিত, বলেন, ব্রিটেনের মানুষের মধ্যে পরিবর্তন, স্থিতিশীলতা এবং নতুন আশার প্রত্যাশা রয়েছে। তিনি আরো বলেন, রাজনৈতিক বিভাজন দূরে রেখে দেশের মানুষের আস্থা পুনর্গঠন, অর্থনীতিকে আরো শক্তিশালী করা, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং দেশের প্রতিটি অঞ্চলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করাই হবে তাঁর সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
এছাড়াও তিনি ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ এবং স্থানীয় নেতৃত্বকে আরও শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। বার্নহ্যাম বলেন, দেশের উন্নয়ন কেবল রাজধানীকেন্দ্রিক হতে পারে না; যুক্তরাজ্যের প্রতিটি অঞ্চলকে সমান গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে নিতে হবে।
তাঁর ভাষায়, জনগণের আস্থা অর্জনই হবে নতুন সরকারের সবচেয়ে বড় শক্তি এবং এই লক্ষ্য নিয়ে তিনি কাজ করবেন। তিনি গৃহহীনতা কমানো, আবাসন নির্মাণ, শিক্ষা ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন এবং জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ারও ঘোষণা দেন।
অন্যদিকে, দায়িত্ব হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ছাড়েন স্যার কিয়ার স্টারমার। বিদায়ি বক্তব্যে তিনি দেশ ও দলের জন্য কাজ করার সুযোগ পেয়ে আনন্দ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। দীর্ঘদিন পর লেবার পার্টিকে সরকারে ফিরিয়ে আনাকে তিনি তাঁর রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেন।
সাথে তিনি নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের প্রতি শুভকামনা জানিয়ে বলেন, দেশের স্বার্থে তাঁর সফলতা কামনা করেন।
বার্নহ্যামের দায়িত্ব গ্রহণের জন্য কোনো সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। যুক্তরাজ্যের সাংবিধানিক রীতি অনুযায়ী, পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা পরিবর্তিত হলে সেই নেতাই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সেই সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে ব্রিটেনের নেতৃত্বে এলেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম।
অ্যান্ডি বার্নহ্যাম ব্রিটিশ রাজনীতির অন্যতম অভিজ্ঞ ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। তিনি দীর্ঘদিন সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি স্বাস্থ্য, সংস্কৃতি এবং অর্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন। পরে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের নির্বাচিত মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে জাতীয় রাজনীতিতে একটি স্বতন্ত্র অবস্থান গড়ে তোলেন।
বিশেষ করে করোনা মহামারির সময়, উত্তর ইংল্যান্ডের মানুষের স্বার্থ রক্ষায় কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে তাঁর দৃढ़ অবস্থান ও আঞ্চলিক উন্নয়নের দাবিতে ধারাবাহিক ভূমিকা তাঁকে জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক পরিচিতি এনে দেয়। সেই সময় থেকেই, রাজনৈতিক মহলে তিনি 'কিং অব দ্য নর্থ' নামে পরিচিত হয়ে ওঠেন।
স্থানীয় সরকারকে আরো ক্ষমতায়ন, আঞ্চলিক বৈষম্য কমানো এবং উত্তরাঞ্চলের উন্নয়নকে জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বার্নহ্যামের নেতৃত্বে ব্রিটেনের রাজনীতিতে আঞ্চলিক উন্নয়ন, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ এবং অর্থনৈতিক ভারসাম্যের প্রশ্নটি আরও বেশি গুরুত্ব পাবে। দীর্ঘদিন ধরে উত্তর ইংল্যান্ডের উন্নয়ন নিয়ে সোচ্চার এই নেতা, বর্তমানে জাতীয় পর্যায়ে সেই দর্শন বাস্তবায়নের সুযোগ পেলেন। ফলে, তাঁর নেতৃত্বে লেবার সরকারের নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকারকে আরো কার্যকর ভূমিকা দেওয়ার উদ্যোগ জোরালো হতে পারে।
ব্রিটেনের রাজনীতিতে এই নেতৃত্ব পরিবর্তন কেবল একজন প্রধানমন্ত্রীর বিদায় ও আরেকজনের দায়িত্ব গ্রহণ নয়; এটি নতুন রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি, নতুন প্রত্যাশা এবং নতুন নেতৃত্বের সূচনা। এখন সকলের নজর থাকবে—উত্তর ইংল্যান্ডের মানুষের আস্থার প্রতীক 'কিং অব দ্য নর্থ' জাতীয় নেতৃত্বেও সেই আস্থা কতটা ধরে রাখতে সক্ষম হন এবং পরিবর্তনের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তা বাস্তবে কতটা সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন