প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডেটা প্রজেক্ট (এসিএলইডি) জানিয়েছে, যে নতুন প্রশাসন ক্ষমতায় এসেছে এরপর থেকে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী বেসামরিক মানুষের ওপর হামলার মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
সোমবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মার্চের শেষের দিকে নতুন সামরিক প্রধান দায়িত্ব গ্রহণ করার পর সেনাবাহিনীর কৌশলে কিছু পরিবর্তন দেখা দিয়েছে।
ওই সময়, আগের সামরিক প্রধান মিন অং হ্লাইং রাষ্ট্রপতি হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এসিএলইডির মতে, সামরিক কমান্ড কাঠামো পুনর্গঠনের পর থেকেই বেসামরিক মানুষ আরো বেশি দমনপীড়ন এবং তীব্র বিমান হামলার শিকার হচ্ছেন।
প্রতিবেদন অনুসারে, নতুন কৌশলের অংশ হিসেবে দুই থেকে পাঁচটি যুদ্ধবিমান নিয়ে একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে। এই বিশেষ দলগুলো একই লক্ষ্যবস্তুতে ধারাবাহিক বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
রয়টার্সের এক প্রশ্নের জবাবে মিয়ানমার সরকার তাৎক্ষণিক কোনো উত্তর দেয়নি। এসিএলইডি জানিয়েছে, তারা গণমাধ্যম, স্থানীয় সহযোগী, জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা এবং স্থানীয় মানবাধিকার সংগঠনের তথ্য বিশ্লেষণ করে মিয়ানমারের সংঘাত পরিস্থিতির প্রতিবেদন তৈরি করে।
২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতা থেকে উচ্ছেদ করা হলে মিয়ানমার গৃহযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত প্রায় এক লাখ মানুষ নিহত হয়েছেন এবং লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
সাম্প্রতিক নির্বাচনের পর, যেখানে বেশিরভাগ বিরোধী দল অংশ নিতে পারেনি, মিন অং হ্লাইং রাষ্ট্রপতি হওয়ার কয়েক দিন আগে তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও সাবেক গোয়েন্দা প্রধান ইয়ে উইন উ-কে সেনাবাহিনীর নতুন প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেন। নতুন নেতৃত্ব দায়িত্ব গ্রহণ করার পর সেনাবাহিনী দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় নতুন অভিযান শুরু করেছে। এমন এলাকাগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ ও বাণিজ্যপথ রয়েছে।
এসিএলইডি জানিয়েছে, মিন অং হ্লাইং রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর সামরিক সরকার নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরো শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে। ফলে বেসামরিক মানুষের জন্য পরিস্থিতির উন্নতির সম্ভাবনা অত্যন্ত কম।
সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিলে মিন অং হ্লাইং রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করার পর থেকে বেসামরিক মানুষের ওপর সামরিক বাহিনীর হামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
এসিএলইডি দাবি করেছে, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে তারা মিয়ানমারে এক ডজনেরও বেশি গণহত্যার ঘটনার তথ্য নথিভুক্ত করেছে। এসব ঘটনার মধ্যে ৪৫০ জনের বেশি বেসামরিক মানুষের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। নিহতদের মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশই দেশের মধ্যাঞ্চলের শুষ্ক আনিয়ার অঞ্চলের বাসিন্দা।
সংস্থাটির তথ্যে বলা হয়েছে, মে মাসে শত শত সেনা বাগানের প্রাচীন মন্দির এলাকার নিকটবর্তী নদীতীরবর্তী মিত চায় শহরে অভিযান চালায়। স্থানীয় তিন বাসিন্দার দাবি অনুযায়ী, ওই অভিযানে অন্তত ৪০ জন নিহত হন। স্থানীয় বাসিন্দা ইয়ে নাউং রয়টার্সকে জানান, প্রায় ৭০০ সেনা শহরে ঢুকে মানুষের জিনিসপত্র লুট এবং অনেককে মারধর ও হত্যা করেছে। তবে রয়টার্স এই ঘটনার পূর্ণ বিবরণ স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। এসিএলইডির তথ্যভান্ডারে এই ঘটনার নথি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এবং স্থানীয় গণমাধ্যমে অন্তত পাঁচজন নিহত হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছে।
এসিএলইডির মতে, ২০২৬ সালে সামরিক বাহিনীর কৌশলে কিছু পরিবর্তন এলেও বেসামরিক মানুষের ওপর নির্যাতন কমেনি। বরং হামলার ধরনের পরিবর্তন ঘটেছে। অন্যদিকে, মিয়ানমারের রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পরে দেশটিকে ঘিরে কূটনৈতিক তৎপরতাও বেড়েছে। এর মধ্যে রাষ্ট্রপতি মিন অং হ্লাইং সম্প্রতি ভারত ও চীন সফর করেছেন।
নতুন প্রশাসন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক জোট আসিয়ান-এর সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টাও করছে। ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পরে আসিয়ান মিয়ানমারের সামরিক শাসকদের শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে দেয়নি। তবে সম্প্রতি দুই পক্ষের মধ্যে সীমিত পরিসরে আবার যোগাযোগ শুরু হয়েছে।
কূটনৈতিক স্বীকৃতি বাড়ানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে মিন অং হ্লাইং আগামী ৬ ও ৭ আগস্ট থাইল্যান্ডে সরকারি সফর করবেন। এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন