প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কৃষকদের সরকারি দামে পর্যাপ্ত সার সরবরাহ এবং দরিদ্র মানুষের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা চালুর দাবি জানানো হয়েছে কৃষক ও ক্ষেতমজুর সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে। দেশের বিভিন্ন স্থানে ফসলি জমি নষ্ট করে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন বন্ধেরও দাবি উত্থাপন করা হয়েছে, বিশেষ করে ময়মনসিংহের ভালুকায়।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে এসব দাবি জানানো হয়। কৃষক ও ক্ষেতমজুর সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট আনোয়ার হোসেন রেজার সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন কৃষক সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট এস এম এ সবুর, বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতির সভাপতি ডা. ফজলুর রহমান, জাতীয় কৃষক-খেতমজুর সমিতির সভাপতি অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার, সমাজতান্ত্রিক ক্ষেতমজুর ও কৃষক ফ্রন্টের সহসাধারণ সম্পাদক নিখিল দাস, বাংলাদেশ কৃষক ও ক্ষেতমজুর সংগঠনের সদস্য রাজু আহমেদ, কৃষক ঐক্য ফোরামের সভাপতি জগলুল পাশা এবং ক্ষেতমজুর সমিতির সাধারণ সম্পাদক অর্ণব সরকার। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
কৃষকদের সার সংকট নিয়েও সমাবেশে নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, ধানের গত মৌসুমের শুরু থেকেই কৃষকরা প্রয়োজনীয় পরিমাণ সার পাচ্ছেন না। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে দেশে সারের সংকট নেই, কৃষকরা সরকারি দামে বাজারে পর্যাপ্ত সার পাচ্ছেন না। অনেক কৃষক বেশি দাম দিয়েও সার কিনতে না পারায় তাদের ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই কৃষকদের সরকারি নির্ধারিত দামে পর্যাপ্ত সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।
নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, অতীতের আওয়ামী লীগ সরকারের রেন্টাল-কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো বর্তমান সরকারও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে টেন্ডারের মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের কাজ দিয়েছে। কিন্তু দেশের বিভিন্ন স্থানে এসব প্রকল্পের জন্য সাধারণ কৃষকের উর্বর ফসলি জমি দখলের চেষ্টা চলছে। ময়মনসিংহের ভালুকায় ফসলি জমি ও বসতবাড়ি এলাকায় প্রায় ১৭০ একর জমি সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের জন্য জোর করে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। স্থানীয় এক সংসদ সদস্যের স্ত্রীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রথমে কৃষি কর্মকর্তা আপত্তি জানালেও পরে চাপের মুখে অনাপত্তিপত্র দেওয়া হয়েছে। সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করে সরকারি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের দাবি জানান তারা।
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর বিষয়েও নেতৃবৃন্দ কঠোর সমালোচনা করেন। তারা বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে পরিবহন ব্যয় ও দ্রব্যমূল্য আরো বাড়বে। অথচ ক্ষেতমজুরসহ নিম্নআয়ের মানুষ বর্তমান আয় দিয়ে তিন বেলা খাবার জোগাড় করতে পারছেন না। এই পরিস্থিতিতে অবিলম্বে ক্ষেতমজুরসহ দরিদ্র মানুষের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা চালুর দাবি জানান তারা। একই সঙ্গে সব ক্ষেতমজুর পরিবারের জন্য ফ্যামিলি কার্ড এবং বর্গাচাষীদের জন্য কৃষি কার্ড নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
সমাবেশ থেকে জানানো হয়, কৃষিজমি নষ্ট করে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন বাতিল, কৃষকদের সরকারি দরে সার সরবরাহ এবং ক্ষেতমজুরসহ দরিদ্র মানুষের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা চালুর দাবিতে আগামী ৫ অক্টোবর দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন