প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঘুম থেকে ওঠার পর কাঁধে অনুভব করা তীব্র ব্যথা ও হাত নাড়াতে না পারার যে যন্ত্রণা, সেটি চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় অ্যাডেসিভ ক্যাপসুলাইটিস বা ফ্রোজেন শোল্ডার নামে পরিচিত। এই সমস্যা সাধারণত তখন ঘটে যখন কাঁধের জয়েন্টের চারপাশের টিস্যুগুলো বা ক্যাপসুল ফুলে শক্ত হয়ে যায়। কাঁধের এই জড়তা ও অসহ্য যন্ত্রণার হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো নিয়মিত কিছু স্ট্রেচিং বা ব্যায়াম করা।
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, সাধারণত ডায়াবেটিস, থাইরয়েড ও হৃদযন্ত্রের অসুখ থাকলে ফ্রোজেন শোল্ডারের ঝুঁকি বেড়ে যায়। একটি কথা মনে রাখা প্রয়োজন, শরীরে হরমোনের ভারসাম্য বিগড়ে গেলে কিংবা কোনো চোট-আঘাতের কারণে এই রোগ বিশেষভাবে দেখা দিতে পারে। ফ্রোজেন শোল্ডারের সমস্যা থাকলে যন্ত্রণার হাত থেকে মুক্তির উপায় সম্পর্কে জানা অতীব প্রয়োজন।
রাতে ভালো ঘুমানোর পর সকালে চোখ খুললেন কিন্তু হাত নাড়াতে পারছেন না। কাঁধ এমন শক্ত হয়ে গেছে যে নড়চড়া করার উপায় নেই। রোগটির নাম ‘ফ্রোজেন শোল্ডার’, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরিভাষায় ‘অ্যাডহেসিভ ক্যাপসুলাইটিস’ বলা হয়। এই রোগে আক্রান্ত হলে ঘাড়, কাঁধের পেশি ও অস্থিসন্ধির কার্যক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, যে অস্থিসন্ধি দ্বারা বাহু ও কাঁধ সংযুক্ত থাকে, সেখানে অবস্থিত হাড়, লিগামেন্ট এবং টেন্ডনগুলো কিছুটা ক্যাপসুলের মতো টিস্যু দ্বারা আবৃত থাকে। যদি সেই ক্যাপসুল ফুলে বা শক্ত হয়ে যায়, তবে ফ্রোজেন শোল্ডার দেখা দিতে পারে।
চিকিৎসক যুগল কারখুর জানিয়েছেন, ফ্রোজেন শোল্ডার হলে ব্যায়াম করার সময় খুব সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। ভুল পদ্ধতি বা ভুল ব্যায়াম বেছে নিলে যন্ত্রণা বেড়ে যেতে পারে। সুতরাং কিছু স্ট্রেচিংয়ের মাধ্যমে ফ্রোজেন শোল্ডারের যন্ত্রণার হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে সঠিক কায়দা জানা খুবই জরুরি।
চলুন দেখা যাক, কীভাবে ব্যায়াম করে নিজেদেরকে রক্ষা করা সম্ভব—
পেন্ডুলাম স্ট্রেচ: আপনার শরীরের উপর অংশ সামান্য সামনে দিকে ঝুঁকিয়ে দাঁড়ান। এরপর একটি হাত টেবিল বা চেয়ারের ওপর রাখুন। অপর হাতটি আলগাভাবে ঝুলিয়ে ধীরে ধীরে ছোট বৃত্তাকারে ঘোরান— প্রথমে ঘড়ির কাঁটার দিকে এবং পরে ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে। এভাবে পাঁচবার এক হাত ঘোরানোর পর, পরবর্তী পাঁচবার অন্য হাতটি ঘোরান।
ফিঙ্গার ওয়াক ওন দি ওয়াল: এই ক্ষেত্রে দেওয়ালের সামনে রোগীকে দাঁড়াতে হবে। এখানে একটি হাত ঝুলিয়ে রেখে অন্য হাতের পাতা দিয়ে দেওয়ালের সঙ্গে ঠেকিয়ে আঙুলের সাহায্যে দেওয়াল বেয়ে ওপরে ওঠার চেষ্টা করুন। এরপর হাত বদল করে অন্য হাতের আঙুলের সাহায্যে একই পদে দেওয়াল বেয়ে উঠতে হবে।
টাওয়েল স্টেচ: ডান হাতে তোয়ালে নিয়ে শরীরের পেছনের দিকে মাথার ওপরে হাতটি তুলে রাখুন। বাঁ হাত দিয়ে তোয়ালের শেষ প্রান্তটি ধরুন। এরপর ডান হাতটি যতটা সম্ভব ওপর দিকে স্ট্রেচ করুন এবং বাঁ হাতটি একই সঙ্গে নিচের দিকে স্ট্রেচ করুন। দুই হাতে টান অনুভব করতে পারবেন। ৩০ সেকেন্ড করার পর হাত বদল করুন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন