প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সাইপ্রাসে নিখোঁজ শাহরিয়ার আহমেদ ইমন নামক এক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ২২ বছর বয়সী এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ড সংঘটনের পর অভিযুক্ত ব্যক্তি ইমনের পরিবারের কাছে তাঁকে মুক্তিপণ দাবি করেছিলেন।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে জানা যায়, গত ১২ জুন ওরোক্লিনি এলাকায় ইমনের বাসা থেকে বের হওয়ার পর তাঁর আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। তিনি কোফিনু অঞ্চলের একটি কারখানায় প্রথম কর্মদিবসে যোগ দিতে যাচ্ছেন বলে পরিচিতদের জানিয়েছিলেন। নিখোঁজ হওয়ার রাতে, তিনি মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে এক বন্ধুকে তাঁর অবস্থানের একটি লোকেশন পাঠিয়েছিলেন।
এরপর থেকে তাঁর সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া সন্দেহভাজন ব্যক্তি জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র এবং নিহতের বিভিন্ন ব্যক্তিগত সামগ্রী কোথায় রেখেছিল, সে সম্পর্কেও তিনি তথ্য দিয়েছেন।
তদন্তে উঠে এসেছে, ইমন ও অভিযুক্তের পরিচয় হয়েছিল একটি বাসযাত্রার সময়। অভিযুক্ত দাবি করেছেন, সে সময় ইমনের আচরণে তিনি অপমানিত বোধ করেছিলেন। তবে পুলিশ মনে করছে, ব্যক্তিগত ক্ষোভের পাশাপাশি অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্যও এই ঘটনার পেছনে কাজ করেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, নিখোঁজ হওয়ার পাঁচ দিন পর চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ইমনকে কোফিনু এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁকে হত্যা করে মরদেহ গোপনে মাটিচাপা দেওয়া হয়।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, হত্যার কিছু সময় পর অভিযুক্ত ব্যক্তি ইমনের মোবাইল ফোন ব্যবহার করে তাঁর বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং মুক্তিপণ দাবি করেন। এর মাধ্যমে অপহরণের একটি ভুয়া নাটক তৈরি করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে তদন্তকারীরা ধারণা করছেন।
উদ্ধার হওয়া মরদেহটি পচনরত অবস্থায় পাওয়া গেছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা, নিখোঁজ হওয়ার রাতেই ইমন হত্যার শিকার হন। বর্তমানে মরদেহ উদ্ধার হওয়া স্থানে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার নেপথ্যের সব তথ্য উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। নিহত শাহরিয়ার আহমেদ ইমন নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার বাখরনগর এলাকার বাসিন্দা নাসির মিয়ার ছেলে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন