প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কিছু শিশু গানের সুরে নিজেদের মেতে তুলেছে, আবার কিছু অংশ নিয়েছে পুঁথি পাঠ, নাচ, চিত্র প্রদর্শনীসহ নানা সাংস্কৃতিক পরিবেশনায়। শিশুদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণ দেখা গেছে সায়েন্স ও ম্যাথ ফেয়ার এবং কুইজ প্রতিযোগিতায়ও। রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী অদিতি মহসিন এবং নজরুল সংগীত শিল্পী রেবেকা সুলতানার মতো গুণিজনরা শিশুদের উৎসাহিত করতে উপস্থিত ছিলেন।
আজ শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মেধা, সৃজনশীলতা ও প্রতিভা বিকাশের লক্ষ্যে ‘আগামী ফেস্ট ২০২৬’ নামক একটি দিনব্যাপী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ঢাকার আগারগাঁওয়ে ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেক্টস বাংলাদেশ (আইএবি সেন্টার)-এ এই উৎসবের আয়োজন করেছে আগামী। এর মূল প্রতিপাদ্য ছিল- ‘সব শিশুদের জন্য শিক্ষা’।
সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত আয়োজিত উৎসবে আগামী বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে। মেধা ও সৃজনশীলতা তুলে ধরার জন্য শিশুরা বিজ্ঞান ও গণিত মেলায় অংশ নেয়। সায়েন্স ও ম্যাথ ফেয়ারে শিক্ষার্থীরা ১৪টি বিজ্ঞানভিত্তিক প্রকল্প উপস্থাপন করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা প্রকল্প এবং শিল্পকর্ম মূল্যায়নের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন আগামী এডুকেশন ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক নেহরীন মাজেদ এবং আগামী ইনকর্পোরেটেড বাংলাদেশ-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর মো. আমিনুল ইসলাম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জীব রসায়ন ও আনবিক জীববিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. জেবা ইসলাম সিরাজও বক্তব্য দেন। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন ড. বজলুর রশীদ খান (চিত্রশিল্পী রশীদ আমিন), স্থপতি ও শিশুতোষ ম্যাগাজিন 'টইটম্বুর' এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা হাসনাইন সাবিহ নায়েকসহ অনেকে।
উৎসবে ‘আগামী’ ম্যাগাজিনের প্রকাশনা উদ্বোধন করেন আগামী এডুকেশন ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট নাফিসা খানম। এতে সংস্থাটির পথচলা, কার্যক্রম, অর্জন এবং শিশু ও স্কুলগুলোর সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের কাজের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে।
আয়োজকরা জানান, ‘আগামী’ সুবিধাবঞ্চিত ও পিছিয়ে পড়া শিশুদের জন্য শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি এবং তাদের মেধা ও সম্ভাবনা বিকাশে কাজ করছে। ‘আগামী ফেস্ট’-এর মাধ্যমে শিশুদের শুধু দর্শক হিসেবে নয়, বরং উৎসবের সক্রিয় অংশগ্রহণকারী হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
এই উৎসব মূলত শিশুদের উল্লেখ করে আগামী বলছে, ‘আমাদের সঙ্গে যুক্ত অনেক শিশু সুবিধাবঞ্চিত পরিবার থেকে আসে। কিন্তু সুযোগ পেলে তাদের মেধা, সৃজনশীলতা ও সম্ভাবনাও সমানভাবে বিকশিত হতে পারে। এই উৎসবের মাধ্যমে আমরা তাদের সেই সুযোগ করে দিতে চাই এবং তাদের অর্জন ও প্রতিভাকে সবার সামনে তুলে ধরতে চাই।’
অধ্যাপক জেবা ইসলাম সিরাজ মন্তব্য করেন, ‘আমাদের অনেক শিশু আছে, যারা সমাজের সুবিধা থেকে বঞ্চিত। তাদের কেউ কেউ খুবই মেধাবী। তাদের মেধার বিকাশের জন্য আমাদের সকলকে কাজ করে যেতে হবে।’
রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী অদিতি মহসিন বলেন, ‘শিশুদের সৃজনশীলতার বিকাশের জন্য এই আয়োজনে যুক্ত হতে পেরে ভালো লাগছে। আগামী শিশুদের নিয়ে যে কাজটি করে যাচ্ছে। এটি আসলে আমাদের সবার দায়িত্বটিই তারা পালন করছেন।’ এ সময় তিনি গানও গেয়ে শোনান।
নজরুলসংগীত শিল্পী রেবেকা সুলতানা বলেন, ‘শিশুরা কত রকম প্রতিবন্ধকতার মধ্যে থেকেও নিজেকে বিকশিত করার জন্য চেষ্টা করছে, তা দেখে আমি অভিভূত।’ পরে শিশুদের সঙ্গে নিয়ে গান গেয়ে শোনান এই সংগীতশিল্পী।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন