প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মধ্য-উত্তর ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা শক্তিশালী ভূমিকম্পের পাঁচ দিন পরও উদ্ধার অভিযান চলছে। এমন পরিস্থিতিতে ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে থাকা ব্যক্তিদের উদ্ধার করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে এবং এর মাঝে মৃতের সংখ্যা বাড়ছে।
২৪ জুনের এই ভয়াবহ দুর্যোগে দেশটির কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ১৭১৯ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে ব্যাপক মানবিক সহায়তা কার্যক্রম শুরু হলেও, পুরো অঞ্চলকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে দীর্ঘ সময় লাগবে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্কতা জানিয়েছেন।
ভেনেজুয়েলা সরকারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত প্রায় ৫০০০ মানুষের আহত হওয়ার খবর নিশ্চিত হয়েছে এবং ১২০০০-এরও বেশি মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছে। নিখোঁজদের সঠিক সংখ্যা এখনও নিশ্চিত নয়, ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এই জরুরি পরিস্থিতি পরিণতি সামাল দিতে জাতিসংঘ ও ভেনেজুয়েলা কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে ১০,০০০ মৃতদেহ রাখার ব্যাগ সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জাতিসংঘের আবাসিক ও মানবিক সমন্বয়কারী জিয়ানলুকা রামপোলা জানিয়েছেন, রবিবার (২৮ জুন) ধ্বংসস্তূপ থেকে সাতজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে ২৭টি দেশের ২০০০ জনেরও বেশি উদ্ধারকর্মী এবং ১৬০টিরও বেশি দূরন্ত অনুসন্ধানকারী কুকুর মিলে ৪০টি দলে বিভক্ত হয়ে কাজ করছেন দিনরাতে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভূমিকম্পে দেশের মোট সাতটি রাজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে ‘লা গুয়াইরা’ রাজ্যে এবং রাজধানী কারাকাসের ‘ডিস্ট্রিটো ক্যাপিটাল’ এলাকায়। ভূমিকম্পের তীব্রতায় ওই অঞ্চলের প্রায় ২,৫০০টি ভবন ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যেগুলোর একটি বড় অংশ সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে।
জাতিসংঘের প্রতিনিধি রামপোলা সামগ্রিক পরিস্থিতি উল্লেখ করে বলেন, ‘আমরা এই মুহূর্তে অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এবং বিপজ্জনক একটি পরিবেশের মধ্যে উদ্ধার ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি।’ তবে আবহাওয়া ও প্রকৃতির প্রতিকূলতার কারণে স্থলভাগের উদ্ধার অভিযান চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মূল ভূমিকম্পের পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৫০০টি আফটারশক (পরবর্তী কম্পন) রেকর্ড করা হয়েছে, যার মধ্যে সোমবার (২৯ জুন) ভোরে আঘাত হানা ৫.২ মাত্রার কম্পনটি অন্যতম।
এদিকে, দুর্গত এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, যা ধসে পড়া ভবনগুলোর উদ্ধারকাজকে আরও জটিল করে তুলছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন