প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সুন্দরবনের বনদস্যু বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর তিন সক্রিয় সদস্য, যারা বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের কাছে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আত্মসমর্পণ করেছেন। এই আত্মসমর্পণের সময় তাদের কাছ থেকে তিনটি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র, ৪০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ ও একটি ওয়াকিটকি জব্দ করা হয়েছে।
এছাড়া, তাদের জিম্মায় থাকা এক জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানান।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, সুন্দরবনে বনদস্যু দমনে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে 'অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন' এবং 'অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড' নামে দুটি বিশেষ অভিযান চলমান রয়েছে। এসব অভিযানের ধারাবাহিকতায় বুধবার (৮ জুলাই) বিকেল ৫টার সময় বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার সুন্দরবনের তাম্বুলবুনিয়া ফরেস্ট অফিসসংলগ্ন কলামুলি খাল এলাকায়, বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর তিন সদস্য কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেন।
আত্মসমর্পণকারীরা হলেন— বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার আলামিন হোসেন (৪০), সাতক্ষীরার তালা উপজেলার তৈবুর রহমান (২৪) এবং খুলনার কয়রা উপজেলার মনিরুজ্জামান মামুন (২০)। কোস্ট গার্ড জানায়, তারা দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে ডাকাতি, জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।
আত্মসমর্পণের সময় তাদের কাছ থেকে দুটি দেশীয় একনলা বন্দুক, একটি দেশীয় পাইপগান, ৪০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ এবং একটি ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি, তাদের জিম্মায় থাকা এক জেলেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
কোস্ট গার্ড আরও জানায়, চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে ৪৯টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, ১০ রাউন্ড তাজা গোলা, ৩১৬ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ১০৮ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ১৯৪ রাউন্ড এয়ারগানের গুলি এবং দুটি ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়েছে। এই সময়ে ৪২ জন বনদস্যুকে আটক করা হয়েছে এবং দস্যুদের হাতে জিম্মি থাকা ৪১ জনকে জীবিত উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এর আগে ছোট সুমন বাহিনীর সাত সদস্যও অস্ত্রসহ কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেন।
কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, আত্মসমর্পণকারী তিন সদস্যের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি, তাদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া এবং উদ্ধার হওয়া জেলেকে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
বাহিনীটি আরও জানিয়েছে, সুন্দরবনের সক্রিয় বনদস্যুদের অস্ত্র সমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। যারা আত্মসমর্পণ করবেন, তাদের পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া হবে। কিন্তু অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখলে সরকারের 'জিরো টলারেন্স' নীতির আওতায় কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন