প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন জানিয়েছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক এখন ইতিহাসের অন্যতম সেরা পর্যায়ে রয়েছে।
তিনি এই মন্তব্যটি শনিবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ‘বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সমিতি’ আয়োজিত এক সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদানকালে করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির দায়িত্ব পালন করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের নতুন সম্ভাবনার এক বিস্তৃত রূপরেখা তুলে ধরেছেন। রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে পূর্ণ সহযোগিতা প্রদান করতে চীন প্রস্তুত রয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশের পণ্যের জন্য চীনের বাজার আরও উন্মুক্ত করার পাশাপাশি দ্রুতগতির বুলেট ট্রেনের সম্ভাবনা এবং রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সক্রিয় মধ্যস্থতা করার কথা বলেন।
রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ এবং চীনের সম্পর্ক ইতিহাসের অন্যতম সেরা পর্যায়ে রয়েছে। সাম্প্রতিক উচ্চপর্যায়ের সফর দুটি দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করেছে। উন্নয়ন, বাণিজ্য, যোগাযোগ ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা দিতে চীন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি তিস্তা মহাপরিকল্পনায় পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করে বলেন, চীন আন্তরিকভাবে কাজ করছে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য। প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে এবং প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সহায়তা দিতে বেইজিং প্রস্তুত রয়েছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের পানি ব্যবস্থাপনা, কৃষি এবং পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
তিনি বলেন, কাঁঠাল রফতানির জন্য চীনের বিশাল বাজার এখন খুলছে। প্রধানমন্ত্রী সাম্প্রতিক চীন সফরে বাংলাদেশের তাজা কাঁঠাল রফতানির বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রটোকল স্বাক্ষর হয়েছে। এর ফলে আমের পর এবার দেশের জাতীয় ফল কাঁঠালও চীনের বিশাল ভোক্তা বাজারে প্রবেশের সুযোগ পাবে, যা কৃষি অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে।
তিনি বুলেট ট্রেনের সম্ভাবনা এবং যোগাযোগ খাতে সহযোগিতার বিষয়ে বলেন, বাংলাদেশ-চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোর (বিসিএম) নিয়ে কাজ এগিয়ে চলছে। পাশাপাশি চীনের উচ্চগতির রেল প্রযুক্তি বাংলাদেশে ব্যবহারের সম্ভাবনা গুরুত্বসহকারে বিব্রত করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে ঢাকা-চট্টগ্রামসহ গুরুত্বপূর্ণ রুটে দ্রুতগতির ট্রেন চালুর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত বলেন, মিয়ানমারে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। এই পরিবেশে বাংলাদেশ এবং মিয়ানমারের মধ্যে সংলাপ এগিয়ে নিতে চীন মধ্যস্থতামূলক ভূমিকা অব্যাহত রাখবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন