প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
গণপূর্ত অধিদপ্তরের কাঠের কারখানা সার্কেল-৩, ঢাকার নির্বাহী প্রকৌশলী জুবায়ের বিন হায়দারের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার এবং সরকারি প্রকল্পে অনিয়মের মাধ্যমে অস্বাভাবিক সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীরা দাবি করছেন, সরকারি চাকরির আয়ের সঙ্গে তার বর্তমান সম্পদের পরিমাণের উল্লেখযোগ্য অসঙ্গতি রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, রাজধানীর মোহাম্মদপুরের আসাদ এভিনিউ এলাকায় প্রায় ২২০০ বর্গফুট আয়তনের একটি ফ্ল্যাটসহ বিভিন্ন স্থানে তার নামে বা পরিবারের সদস্যদের নামে স্থাবর সম্পদ রয়েছে। এছাড়া কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলায় জমি এবং পূর্বাচল এলাকায় প্লট থাকার অভিযোগও করা হয়েছে।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়ন, বিল পরিশোধ, যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম ক্রয় এবং টেন্ডার ব্যবস্থাপনায় প্রভাব খাটিয়ে বিপুল সম্পদ অর্জন করা হয়েছে। তাদের দাবি, সরকারি চাকরিজীবনের নিয়মিত আয়ের সঙ্গে এসব সম্পদের সামঞ্জস্য খুঁজে পাওয়া কঠিন।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের কয়েকটি সূত্রের বরাত দিয়ে অভিযোগে বলা হয়েছে, সার্কেল-৩-এর আওতাধীন বিভিন্ন টেন্ডার ও ক্রয় কার্যক্রমে নির্বাহী প্রকৌশলীর প্রভাব রয়েছে। কিছু ঠিকাদারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের মাধ্যমে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগও উত্থাপিত হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই এখনো সম্পন্ন হয়নি।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, কয়েকটি প্রকল্পের বিল পরিশোধ ও কাজের মান নিয়ন্ত্রণে অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এসব বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত হলে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে নির্বাহী প্রকৌশলী জুবায়ের বিন হায়দারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অভিযোগগুলো গুরুতর। সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এক কর্মকর্তা জানান, কোনো সরকারি কর্মকর্তার আয়-ব্যয়ের মধ্যে অসঙ্গতির অভিযোগ এলে প্রাথমিক যাচাই শেষে প্রয়োজনীয় প্রমাণ পাওয়া গেলে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করা হয়। অভিযোগটি আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপিত হলে আইন অনুযায়ী বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে।
সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত চিত্র সামনে আসবে এবং জনমনে বিদ্যমান প্রশ্নেরও উত্তর মিলবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন