প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাজধানীর সড়কগুলোকে আরো নিরাপদ করার লক্ষ্যে অবকাঠামোগত নকশা, যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।
তিনি বলেছেন, সরকার ইতিবাচক অবস্থানে আছে সড়ক নিরাপত্তাসহ নগর উন্নয়নের ক্ষেত্রে।
সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের উদ্দেশ্যে ডিএনসিসি ও বিআইজিআরএসের চলমান কার্যক্রম প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করার কথা রয়েছে।
শনিবার (১১ জুলাই) ডিএনসিসি মিলনায়তনে ‘অবকাঠামোগত নকশার মাধ্যমে গতি নিয়ন্ত্রণ’ শীর্ষক দিনব্যাপী প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ সব কথা বলেন। ‘ব্লুমবার্গ ফিলানথ্রপিস ইনিশিয়েটিভ ফর গ্লোবাল রোড সেফটি’ (বিআইজিআরএস) কর্মসূচির আওতায় ডিএনসিসি এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা ওয়ার্ল্ড রিসোর্সেস ইনস্টিটিউট (ডব্লিউআরআই) এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে শফিকুল ইসলাম খান আরো বলেন, পর্যায়ক্রমে ঢাকা উত্তরের সড়কগুলোকে নিরাপদ করার কাজটি সম্পন্ন করা হবে।
এ জন্য প্রকৌশলী, নগর পরিকল্পনাবিদ এবং স্থপতিদের দক্ষতা বৃদ্ধি করার পাশাপাশি সড়ক নির্মাণ ও ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত সব সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন। সরকারি, বেসরকারি এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা হবে। নিরাপদ সড়ক নকশা প্রণয়নের জন্য আন্তর্জাাতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে প্রকৌশলীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
ডিএনসিসির প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ রাকিবুল হাসান বলেন, ডিএমপির সহযোগিতায় দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থানগুলো শনাক্ত করার কাজ চলছে, এবং নতুন নকশার মাধ্যমে সেগুলো নিরাপদ করার কার্যক্রম চলবে।
নিরাপদ সড়ক নকশা বিষয়ে প্রকৌশলী ও নগর পরিকল্পনাবিদদের প্রশিক্ষণও প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পরিকল্পিত সড়ক নকশা, রেইজড ক্রসিং, গতিরোধক, সিগন্যাল এবং জেব্রা ক্রসিংয়ের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ এবং পথচারীদের নিরাপদে সড়ক পারাপার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও ব্যাপকভাবে কমে আসবে।
ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে সমাধানভিত্তিক সাংবাদিকতা উদ্যোগকে উৎসাহিত করতে প্রশিক্ষণ এবং চালক ও সড়ক ব্যবহারকারীদের গতিসীমা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য গণমাধ্যমে প্রচারাভিযান পরিচালনা করছে ডিএনসিসি। এসব কার্যক্রম আরো সম্প্রসারণের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বিআইজিআরএস বাংলাদেশের সমন্বয়কারী মো. আবদুল ওয়াদুদ বলেন, বিশ্বের ২৭টির বেশি ঘনবসতিপূর্ণ শহরে নিরাপদ সড়ক অবকাঠামো, যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ, নিরাপদ পারাপার, ট্রাফিক আইন বাস্তবায়ন এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে নিরাপদ সড়ক নকশায় অবদান রাখায় ডিএনসিসির চার কর্মকর্তা, সহকারী প্রকৌশলী শ্যামল কুমার সরকার এবং উপসহকারী প্রকৌশলী মো. সোহেল রানা, মো. বাবর আহমেদ এবং মো. মহিনুর ইসলামকে সম্মাননা স্মারক দেওয়া হয়। একই সময়ে ডিএনসিসি প্রশাসকের হাতে স্মারক তুলে দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণে বাংলাদেশ প্রেক্ষাপটে নিরাপদ সড়ক নকশা, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা, গতি নিয়ন্ত্রণে অবকাঠামোগত নকশা এবং মেট্রোরেলের সঙ্গে সড়ক পরিবহনের সমন্বয়সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
ডব্লিউআরআইয়ের পরামর্শক ফারজানা ইসলাম তমা, সহযোগী পরামর্শক আরিনা তাহনীম, আরবান রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড নলেজ ম্যানেজমেন্ট ম্যানেজার রেত্নো হুইনানেস্টা এবং ডিএমটিসিএলের উপ-প্রকল্প পরিচালক সোহেল রানা বিভিন্ন সেশন পরিচালনা করেন। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের হাতে সনদ তুলে দেন ডিএনসিসির প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ রাকিবুল হাসান।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন