প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আমেরিকা এবং ইসরায়েলের দীর্ঘকালীন অটুট সম্পর্কের ভিত্তি এখন ধীরে ধীরে নড়বড়ে হয়ে উঠছে। গত কয়েক দশক ধরে মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ইসরায়েলপন্থী শক্তির যে অবস্থান ছিল, তা এখন পরিবর্তনের দিকে যাচ্ছে। এই পরিবর্তন এমন একটি পর্যায়ে পৌঁছেছে যা কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে সামাল দেওয়া ইসরায়েলের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
ওয়াশিংটন থেকে ইসরায়েলকে পাঠানো আশ্বাসবাণীগুলো এখন অনেকাংশে প্রথাগত বা আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত হয়েছে। ‘সম্পর্ক অটুট’ কিংবা ‘ইসরায়েলের নিরাপত্তার প্রতি প্রতিশ্রুতি ইস্পাতকঠিন’; এই ধরনের বাক্যগুলো বারবার উচ্চারিত হচ্ছে, তবে বাস্তবে ভূ-রাজনীতির প্রেক্ষাপটে আমেরিকার নীতিতে বড় ধরনের ভিন্নতা ধরা পড়ে। ইতিহাস সাক্ষী, ১৯৭৩ সালের যুদ্ধে যখনই মার্কিন এবং ইসরায়েলি স্বার্থের সংঘাত তৈরি হয়েছে, আমেরিকা শেষ পর্যন্ত নিজের জাতীয় স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দিয়েছে। সেই সময় থেকেই ইসরায়েলকে একটি শিক্ষা নিতে হয়েছে যে, পৃষ্ঠপোষক আমেরিকার সঙ্গে যখন উদ্দেশ্য মিলে না, তখন ইসরায়েলকেই ছাড় দিতে হয়।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই ব্যবধান আরও প্রকট হচ্ছে। আমেরিকা বর্তমানে তার মনোযোগ মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরিয়ে ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দিকে দিচ্ছে, যেখানে তাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে চীনকে মোকাবিলা করা। পেন্টাগনের কৌশলগত পরিকল্পনা থেকে পরিষ্কার যে, মধ্যপ্রাচ্যের অশেষ সংঘাত এখন আমেরিকার কাছে মূল লক্ষ্যের চেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার শক্তির ব্যবহার এখন আর কেবল ইসরায়েলের ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং আরব দেশগুলোর সঙ্গে নতুন সম্পর্ক স্থাপনের দিকে ঝুঁকছে ওয়াশিংটন।
আমেরিকার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিও এই সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি বড় প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম এবং সংখ্যালঘুদের মধ্যে ইসরায়েলকে নিঃশর্ত সমর্থন দেওয়ার বিষয়ে অনীহা বৃদ্ধি পাচ্ছে। যে দ্বিদলীয় ঐক্যের ভিত্তিতে কয়েক দশক ধরে এই সম্পর্ক টিকে ছিল, তা এখন বিভক্ত হয়ে পড়েছে। ২০২৮ সালে যখন সামরিক সহায়তার নতুন চুক্তি নিয়ে আলোচনা হবে, তখন মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন অবস্থানে থাকবে। সেখানে করদাতাদের অর্থ বিদেশি রাষ্ট্রে দেওয়া নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন উঠতে পারে।
সূত্র: এশিয়া টাইমস
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন