১২:০৬ এম
তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বাংলাদেশ, যার আকার ৫৬ হাজার বর্গমাইল, একটি মানব শরীরের মতো। যেমন মানব শরীরের প্রতিটি অঙ্গ অনিবার্য, তেমনি আমাদের দেশের সকল নৃ-তাত্ত্বিক জাতিসত্তা, ধর্ম ও ভাষাগোষ্ঠীর বৈচিত্র্যের সংমিশ্রণে এই মাতৃভূমি গড়া হয়েছে। তিনি মন্তব্য করেন যে, যারা বৈচিত্র্যকে ধারণ করতে জানে না কিংবা এখানে জোর করে বিভাজন তৈরি করতে চায়, তারা দেশবিরোধী। প্রকৃত দেশপ্রেমের মূল ভিত্তি হলো এই বৈচিত্র্যকে ধারণ করা।
শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর বেইলি রোডস্থ পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্সে ‘বিজু, বৈসুক, সাংগ্রাই, বিষু, চাংক্রান উৎসবোত্তর পুনর্মিলনী ও সংবর্ধনা ২০২৬’ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথাগুলো বলেন। পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের নবনির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সংবর্ধনা দেওয়ার উদ্দেশ্যে এই আলোচনা সভা ও প্রীতি সম্মিলনের আয়োজন করা হয়েছে।
জহির উদ্দিন স্বপন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদান স্মরণ করে বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’-এর মাধ্যমে নাগরিক ভিত্তিক জাতীয়তার ধারণা নির্মাণ করেছিলেন, যেখানে সব ভাষা, বর্ণ ও জাতিসত্তার মানুষ সমানভাবে বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে মর্যাদা পায়।
আরও পড়ুন: ‘ইরানের আস্থা অর্জনে যুক্তরাষ্ট্রকে দীর্ঘ পথ পেরোতে হবে’
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশে ফেরার পর, পাহাড় ও সমতলের নাগরিকদের সমান অধিকারের বিষয়ে স্পষ্ট ঘোষণা করেছেন। তিনি মনে করেন, সরকারের এই ঘোষণা ভবিষ্যতের নাগরিক অধিকার চর্চার ক্ষেত্রে মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।
নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী আহ্বান জানান, জাতীয় সংহতির জন্য সংখ্যালঘু সকল জাতিসত্তার রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে আইন-কানুন তৈরি করতে হবে। তিনি বলেন, আপনারা এ বিষয়ে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করবেন। এই ধরনের যেকোনো উদ্যোগে তিনি একজন সহকর্মী হিসেবে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।
জুলাই অভ্যুত্থান ও কোটা প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কোটামুক্ত মেধার যে ভিত্তি তৈরি করেছে, সে বিষয়টি তিনি স্বাগত জানান। তিনি উল্লেখ করেন, জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদরা নিজেদের রক্ত ও প্রাণ দিয়ে রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক কাঠামোতে সীমাবদ্ধতাগুলোকে উন্মোচিত করেছেন এবং রাষ্ট্র মেরামতের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করে গেছেন।
অনুষ্ঠানে মেজর (অব.) তপন বিকাশ চাকমার সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান, আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁঞা এমপি, সাচিং প্রু জেরী এমপি এবং সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাধবী মার্মা।
আরও পড়ুন: ‘টাকা নিয়ে ঘুরিনি’: স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের জবাব আদ্-দীনের
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) বিজন কান্তি সরকার।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য এবং সংবর্ধনা প্রদান শেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন