প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চলমান ফুটবল বিশ্বকাপের গ্রুপ ও নকআউট পর্বের প্রথম ধাপের উন্মাদনা শেষ হয়ে যাওয়ার পর, শেষ ষোলোর ম্যাচ শুরু হওয়ার আগেই আন্তর্জাতিক টিকিটের বাজারে একটি বড়ধরণের ধস দেখা দিয়েছে।
গ্রুপ পর্বের মতো শেষ ষোলোর ম্যাচগুলোতে দর্শকদের আগ্রহ আশানুরূপ না থাকায়, বিশ্বফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা টিকিটের চড়া দাম ধরে রাখতে পারছে না।
বিশ্বকাপের অন্যতম প্রত্যাশিত ম্যাচ যুক্তরাষ্ট্র ও বেলজিয়ামের মধ্যকার টিকিটের দাম সবচেয়ে বেশি কমেছে। মাত্র কদিনের ব্যবধানে, এই ম্যাচের টিকিটের মূল্য ৩০ শতাংশেরও বেশি হ্রাস পেয়েছে।
টিকিটের মূল্য পর্যবেক্ষণকারী আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান 'টিকিটডেটা ডটকম'-এর তথ্য অনুযায়ী, সিয়াটলের মাঠে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও বেলজিয়ামের ম্যাচের টিকিটের দাম গত কদিনের মধ্যে এক চরম নাটকীয়তা পেরিয়েছে। গত ১ জুন, এই ম্যাচের সর্বনিম্ন টিকিটের মূল্য প্রায় চার হাজার ডলার ছিল। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই বাজারে ধস নেমে এসেছে, ফলে টিকিটের দাম এক ধাক্কায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৫৪৯ ডলারে।
রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে বসনিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে যুক্তরাষ্ট্র শেষ ষোলোর জন্য গ্যারান্টি করার পর, সেখান থেকে কিছু পর দর্শকদের চাহিদার কারণে টিকিটের দাম আবারও বাড়তে শুরু করে। গত শুক্রবার পর্যন্ত, সর্বনিম্ন টিকিটের মূল্য দাঁড়ায় দুই হাজার ৮৩৬ ডলারে। তবে, এই ঊর্ধ্বগতির স্থায়িত্ব দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে, শনিবার বিকালে টিকিটের দাম প্রায় ৩২ শতাংশ কমে যায় এবং দেখান দেয় এক হাজার ৪২৩ ডলারে। শেষ মুহূর্তে কিছুটা ক্ষতি সামাল দিয়ে, শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত টিকিটের দাম সামান্য বেড়ে গিয়ে দাঁড়ায় এক হাজার ৬৩৫ ডলারে।
বাজার বিশ্লেষকরা জানান, যুক্তরাষ্ট্র-বেলজিয়াম ম্যাচের টিকিটের দামে এমন বড় পতন কিছুটা অপ্রত্যাশিত। কারণ, বেলজিয়াম দলের বেস ক্যাম্প সিয়াটলের লুমেন ফিল্ড স্টেডিয়ামের নিকটবর্তী। এছাড়া, এটি সিয়াটলে বেলজিয়ামের তৃতীয় ম্যাচ হওয়ায় গ্যালারিতে বিপুল দর্শক উপস্থিতির প্রত্যাশা ছিল।
টিকিটের বাজারে বড় পতন ঘটলেও, শেষ ষোলোর আট ম্যাচের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র-বেলজিয়াম ম্যাচটির মূল্য তালিকায় এখনও দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। এই পর্বের সবচেয়ে দামি ম্যাচ হতে যাচ্ছে মেক্সিকো ও ইংল্যান্ডের লড়াই, যেখানে সর্বনিম্ন টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে তিন হাজার ৫৭৪ ডলার।
অন্যদিকে, আর্জেন্টিনা ও মিসরের মধ্যকার ম্যাচের সর্বনিম্ন টিকিট বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ৫৯৯ ডলারে। ব্রাজিল বনাম নরওয়ে ম্যাচের টিকিটের দাম শুরু হচ্ছে এক হাজার ৫৩৭ ডলার থেকে, এবং ইউরোপের দুই পরাশক্তি পর্তুগাল ও স্পেনের মধ্যকার দাম এক হাজার ৩৬৭ ডলারে নির্ধারণ করা হয়েছে।
এদিকে, বৈশ্বিক আসর থেকে বিদায় নিয়েছে সহযোগী দেশ কানাডা। শনিবার মরক্কোর কাছে ৩-০ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল তারা। মাঠের লড়াইয়ে কানাডার এই খারাপ পারফরম্যান্স টিকিটের বাজারে প্রভাব ফেলেছে। ম্যাচটি খেলার শেষ ৭২ ঘণ্টার মধ্যে টিকিটের সর্বনিম্ন দাম প্রায় ১৪ শতাংশ হ্রাস পায়।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, অনেক বড় দল গ্রুপ পর্ব থেকে ছিটকে পড়া এবং ভ্রমণ সংক্রান্ত জটিলতার কারণে আন্তর্জাতিক সমর্থকের উপস্থিতি অভাবেই শেষ ষোলোর ম্যাচের টিকিটের দাম আকস্মিকভাবে কমে গেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন