প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে—এমন ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে দেশটির সাম্প্রতিক সামরিক কার্যক্রম থেকে। ওয়াশিংটন ইসরাইলের দুটি বিমানঘাঁটিতে ১০টি সামরিক কার্গো বিমান পাঠিয়েছে। একই সময়ে, জর্ডান, সৌদি আরব ও কাতারের সামরিক ঘাঁটিতেও যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি বিমান পাঠানো হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান জেনারেল ব্র্যাড কুপার ইরানে সম্ভাব্য হামলার বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে ব্রিফ করেছেন।
এই তথ্যটি ইসরাইলের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম কান (কেএএন) এবং মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের বরাত দিয়ে টিআরটি ওয়ার্ল্ড জানায়। বৃহস্পতিবার কানের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের ১০টি সামরিক কার্গো বিমান ইসরাইলের ওভদা ও নেভাতিম বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করেছে। বিমানগুলো টেক্সাসের ফোর্ট ব্লিস সামরিক ঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করেছিল।
ফোর্ট ব্লিস যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ আকাশ প্রতিরক্ষাকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। সেখানে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার ব্যবস্থা এবং আকাশ প্রতিরক্ষার বিভিন্ন সরঞ্জাম রয়েছে। তবে ইসরাইলে পাঠানো কার্গো বিমানগুলোতে কী ধরনের সামরিক সরঞ্জাম ছিল, সে সম্পর্কে এখনও কোনো তথ্য জানা যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো নিশ্চিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ইরানে হামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ওয়াশিংটন নিয়েছে কি না, সেটিও স্পষ্ট নয়।
ইসরাইলের এক কর্মকর্তা কানকে জানিয়েছেন, সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় চলছে। তিনি বলেন, ‘ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র ঘনিষ্ঠভাবে সমন্বয় করছে। এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত না হলেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে সিদ্ধান্তই নিন না কেন, তার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল প্রস্তুতি নিচ্ছে।’
তবে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বা কখন সিদ্ধান্ত আসতে পারে, সে বিষয়ে ওই কর্মকর্তা বিস্তারিত কিছু জানাননি।
উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতি বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। চলতি সপ্তাহের শুরুতে কান জানিয়েছিল, ইরানে স্বল্পমেয়াদি ও সীমিত সামরিক হামলার আশঙ্কার কথা জানিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোকে প্রস্তুত থাকতে বলেছে ওয়াশিংটন। একই প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা জোরদার করতে টেক্সাস থেকে একটি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা পাঠানো হয়েছে।
সম্ভাব্য সামরিক উত্তেজনার মধ্যে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে থাকা সেনাদের সেখান থেকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছে কান। পাশাপাশি ওই অঞ্চলে অস্ত্রের মজুত বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী।
নভেম্বরে মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত একটি বিমানবাহী রণতরি এবং মেরিন কোরের একটি ইউনিট পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এগুলো সেখানে আগে থেকেই মোতায়েন থাকা যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২০টি যুদ্ধজাহাজের সঙ্গে যুক্ত হবে।
এদিকে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানে সম্ভাব্য হামলার বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে ট্রাম্পকে বিস্তারিত জানিয়েছেন সেন্টকমের প্রধান জেনারেল ব্র্যাড কুপার। পত্রিকাটির মতে, সামরিক বাহিনীর এই ব্রিফিংয়ের মধ্য দিয়ে ইরানে বড় ধরনের হামলা চালানোর সিদ্ধান্তের আরো কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে ওয়াশিংটন।
মার্কিন আইনপ্রণেতাদেরও ইরানে সম্ভাব্য হামলা নিয়ে ব্রিফ করা হয়েছে। ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সিনেটর ক্রিস মারফি জানিয়েছেন, তাকে এবং আরো কয়েকজন সিনেটরকে এ বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে। এসব পরিকল্পনাকে ‘পাগলামি’ বলে অভিহিত করেছেন তিনি।
মারফি সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের সামরিক পদক্ষেপ ভয়াবহ সংঘাতের জন্ম দিতে পারে। একই সঙ্গে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গীকারও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। জবাবে ইরানও পাল্টা হামলা চালায়। পরে এপ্রিলে দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়।
এরপর জুনে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সমঝোতা স্মারকে সই করে। তবে প্রণালিটির নিরাপত্তা নিয়ে দুই দেশের মতপার্থক্যের কারণে সেটির বাস্তবায়ন থমকে আছে।
এমন পরিস্থিতিতে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরুর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কার্গো বিমান পাঠানো, আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা জোরদার এবং অতিরিক্ত সেনা ও যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের প্রস্তুতি সেই আশঙ্কাকে আরো সামনে নিয়ে এসেছে।
এএম
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন