প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
একটি পোষা কুকুরের বিশ্বস্ততার একটি হৃদয়স্পর্শী ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে, মালিকের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া শুরুর কিছুক্ষণ পরেই তার ১৫ বছর বয়সী পোষা কুকুর ‘দুগ্গু’ মারা গেছে। ঘটনাটি ভারতের মধ্যপ্রদেশের বেতুল জেলায় ঘটেছে।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, ৬৭ বছর বয়সী প্রদীপ জৈন ভোপালের অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসে (এআইআইএমএস) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। রোববার সন্ধ্যায় তার মরদেহ বেতুলের বাড়িতে আনা হলে, পোষা কুকুর দুগ্গু তাকে ছেড়ে যেতে চায়নি।
পরিবার জানাচ্ছে, মালিকের মরদেহ বাড়িতে আসার পর থেকেই দুগ্গু অস্বাভাবিক আচরণ করতে থাকে। পরিবারের অন্যান্য সদস্যেরা মরদেহ অন্য একটি কক্ষে রাখলেও, কুকুরটি সারারাত অস্থির ছিল। বারবার ঘেউ ঘেউ করে এবং মালিকের কাছে যাওয়ার জন্য চেষ্টা করতে থাকে।
সোমবার সকালে প্রদীপ জৈনের শেষকৃত্যের আগে, পরিবারের সদস্যরা দুগ্গুকে তার প্রিয় মালিকের পাশে শেষবার বসার সুযোগ দেন। পরিবারের সদস্যদের মতে, কুকুরটি কিছু সময় নীরব ভাবে মালিকের পাশে বসে থেকে যায়। এরপর তাকে ঘরের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়।
কিন্তু, শেষযাত্রা শুরু হওয়ার পর, দুগ্গু আবারও মালিকের মরদেহ বহনের খাটিয়ার পাশে হাঁটতে থাকে। কিছু দূর যাওয়ার পরই সে হঠাৎ মাটিতে লুটিয়ে পড়ে এবং মারা যায়। পরিবারের ধারণা, কুকুরটি ১৫ বছরের দীর্ঘ সঙ্গীর বিচ্ছেদ সহ্য করতে পারেনি।
একই দিন প্রদীপ জৈনের শেষবিদায় হিন্দু ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী বেতুলের গঞ্জ মোক্ষধামে সম্পন্ন করা হয়। অন্যদিকে, দুগ্গুকে মহৎ সম্মানের সঙ্গে কাছে সমাহিত করা হয়।
প্রদীপ জৈনের ছোট ভাই দিলীপ জৈন জানান, দুগ্গু ছোটবেলা থেকেই তাদের পরিবারের সঙ্গে ছিল। বিশেষ করে প্রদীপ জৈনের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত গভীর। তিনি বলেন, প্রতিদিন প্রদীপ জৈন বাড়ি ফেরার জন্য দুগ্গু অপেক্ষা করত। প্রায়ই তার সঙ্গে খাবার খেত এবং মালিক অসুস্থ হলে নিজেই অসুস্থ হয়ে পড়ত।
পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, দুগ্গু শুধুমাত্র একটি পোষা প্রাণী ছিল না, বরং সে ছিল পরিবারের একজন সদস্য। দীর্ঘ ১৫ বছরের বিশ্বস্ত সঙ্গের পর, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মালিকের পাশে থেকে যে বিদায় নিয়েছে, তা অনেক দেশের মানুষের চোখের পানি ফেলতে বাধ্য করেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন