প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চলতি বছরের জুন মাসে দেশের পণ্য রপ্তানি আয় আগের বছরের একই সময়ে তুলনায় প্রায় ২৬ শতাংশ বেড়েছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে তৈরি পোশাক, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশল পণ্য এবং কৃষিপণ্যের রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধির ফলে এই সাফল্য অর্জিত হয়েছে।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন মাসে বাংলাদেশ পণ্য রপ্তানি থেকে অর্জন করেছে ৪২০ কোটি মার্কিন ডলার। ২০২৫ সালের একই মাসে এই আয় ছিল ৩৩৪ কোটি মার্কিন ডলার। ফলে, এক বছরের ব্যবধানে রপ্তানি আয় বেড়েছে ২৫ দশমিক ৯১ শতাংশ।
তবে সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের (জুলাই-জুন) পুরো সময়কালে দেশের মোট পণ্য রপ্তানি আয় হয়েছে ৪ হাজার ৮০০ কোটি মার্কিন ডলার। আগের অর্থবছরে এই আয় ছিল ৪ হাজার ৮২৮ কোটি ডলার। অর্থাৎ, বার্ষিক হিসাবে রপ্তানি আয় সামান্য কমেছে।
ইপিবির বক্তব্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি, ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা, সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন, জ্বালানি বাজারের অস্থিতিশীলতা এবং প্রধান রপ্তানি বাজারগুলোতে চাহিদা কম থাকা সত্ত্বেও আগের অর্থবছরের তুলনায় রপ্তানি আয় ধরে রাখা বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের সক্ষমতা এবং অভিযোজন ক্ষমতার প্রমাণ।
দেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক খাত জুন মাসে মোট ৩৩৯ কোটি মার্কিন ডলার আয় করেছে, যা আগের বছর একই মাসের তুলনায় ২১ দশমিক ৫২ শতাংশ বেশি। ২০২৫ সালের জুনে এই খাতের আয় ছিল ২৭৯ কোটি মার্কিন ডলার। এর মধ্যে নিট পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ১৯ দশমিক ৪৯ শতাংশ এবং বুনন পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ২৪ দশমিক ২ শতাংশ।
জমা হয়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তৈরি পোশাক খাত থেকে রপ্তানি আয় হয়েছে ৩ হাজার ৮৭০ কোটি মার্কিন ডলার, যা দেশের মোট রপ্তানি আয়ের বৃহৎ অংশ।
অন্যান্য খাতের মধ্যে, জুন মাসে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি বেড়েছে ৪৭ দশমিক ৬৮ শতাংশ। পুরো অর্থবছরে এসব খাতের জন্য রপ্তানি আয় ১২৩ কোটি ডলার, যা পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় ৭ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি।
একই সময়ে পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানি জুনে বেড়েছে ৭৬ দশমিক ৬ শতাংশ। অর্থবছরের জন্য এই খাতের রপ্তানি আয় হয়েছে ৮৮ কোটি ৩৬ লাখ ৯০ হাজার ডলার, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ বেশি।
হোম টেক্সটাইল খাতে জুনে রপ্তানি বেড়েছে ৫৯ দশমিক ৯৫ শতাংশ এবং সম্পূর্ণ অর্থবছরে এটা বেড়েছে ৬ দশমিক ৫২ শতাংশ। প্রকৌশল পণ্যের রপ্তানি জুনে বেড়েছে ৪৪ দশমিক ৭৪ শতাংশ এবং অর্থবছরের উপর ভিত্তি করে বেড়েছে ২১ দশমিক ৭৭ শতাংশ। এছাড়াও, কৃষিপণ্যের রপ্তানি জুন মাসে ৪৬ দশমিক ৭৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
দেশভিত্তিক বাজার অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় একক রপ্তানি গন্তব্য ছিল যুক্তরাষ্ট্র। এখানে রপ্তানি হয়েছে ৯০৫ কোটি ডলারের পণ্য, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ৪ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি। দ্বিতীয় ও তৃতীয় বৃহত্তম রপ্তানি বাজার হিসাবে যথাক্রমে জার্মানি এবং যুক্তরাজ্য তাদের স্থান ধরে রেখেছে। জুন মাসে বাংলাদেশে শীর্ষ ২০টি রপ্তানি গন্তব্যেই ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।
ইপিবি আশা করছে, রপ্তানি পণ্য এবং বাজারের বহুমুখীকরণের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি আরও শক্তিশালী হবে এবং এটি দেশের টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন