প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বরগুনার তালতলীতে গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ খেয়ে এক গৃহবধূর মৃত্যুর ঘটনায় ময়নাতদন্ত শেষ হওয়ার পর মর্গ থেকে মরদেহ নিতে গিয়ে নিহতের স্বজন ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। নিহতের পরিবারের দাবি, এটি আত্মহত্যা নয়, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুর আড়াইটার দিকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গের সামনে এই ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ও স্থানীয়দের মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
পুলিশ ও পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, দাম্পত্য জীবনে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিভিন্ন কারণে প্রায়ই বিরোধ দেখা দিত। সোমবার রিমাকে গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ খাওয়া অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা প্রদান করতে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের আত্মীয়দের অভিযোগ, রিমাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এই অভিযোগের পর তালতলী থানা পুলিশ মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
স্বজনদের দাবি, মরদেহ মর্গে রেখে রিমার স্বামী ইউসুফ ও তার পরিবারের সদস্যরা কাউকে কিছু না জানিয়েই মর্গ থেকে চলে যান। প্রায় দুই ঘণ্টা পর তারা আবার মর্গে এলে বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে এটি হাতাহাতিতে পরিণত হয়। পরে পুলিশের ও স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়ে যায়।
এ বিষয়ে আবু বকর, নিহত রিমার এক স্বজন বলেন, "আমরা শুনেছি, রিমাকে মেরে ফেলা হয়েছে। কিন্তু পুলিশকে ম্যানেজ করে অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে।" তিনি জানান, পরে তারা ময়নাতদন্তের আবেদন করলে আজ সকালে মরদেহ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। কিন্তু মরদেহ রেখেই রিমার স্বামী দ্রুত চলে যায়।
নিহত রিমার ভাই মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, "আমি দূরে ছিলাম। মোবাইল ফোনে জেনেছি আমার বোনকে গ্যাস ট্যাবলেট খাওয়ানো হয়েছে।" তিনি আরও বলেন, "দুই একদিন আগেও তাকে মারধর করা হয়েছিল, তার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।"
এ বিষয়ে তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইদুল ইসলাম বলেছেন, "হত্যা নাকি আত্মহত্যা, এই প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের জন্যই মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসলে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।" তিনি জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন