প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের একটি যুব ফুটবল টুর্নামেন্টে না যাওয়ার জন্য ফিফার ভাইস প্রেসিডেন্ট ও কনকাকাফ সভাপতি ভিক্টর মন্তাগলিয়ানি অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু সেই অনুরোধকে উপেক্ষা করে ইনফান্তিনো ডোমিনিকান রিপাবলিকের পুন্টা কানায় অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৪ টুর্নামেন্টে উপস্থিত হন।
গতকাল শনিবার ইনস্টাগ্রামে টুর্নামেন্টের বিভিন্ন ছবি প্রকাশ করেছেন ফিফা সভাপতি। যেখানে দেখা যায়, তিনি ডোমিনিকান রিপাবলিকের রাজনৈতিক ও ফুটবল কর্মকর্তাদের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন।
আজকালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইনফান্তিনোর উপস্থিতি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয় এবং শুক্রবার চিঠি দিয়ে মন্তাগলিয়ানি আপত্তি জানান। তার উদ্বেগ ছিল যে, ফিফার সাম্প্রতিক বিতর্কের কারণে সংবাদমাধ্যমের দৃষ্টি যুব টুর্নামেন্টের পরিবর্তে ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব ও ফিফার অভ্যন্তরীণ সংকটের দিকে চলে যাবে।
মন্তাগলিয়ানি চিঠিতে লিখেছিলেন, ফিফার ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত গভর্ন্যান্স সংকটের কারণে ইনফান্তিনোর উপস্থিতি টুর্নামেন্টটির মূল উদ্দেশ্য ও যুব উন্নয়ন কার্যক্রমকে আড়াল করে দিতে পারে। এই প্রেক্ষিতে তিনি ‘ফুটবলের স্বার্থে’ ইনফান্তিনোকে সফর পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছেন।
ফিফা মন্তাগলিয়ানির অনুরোধ সম্পর্কে সরাসরি মন্তব্য করেনি; তবে সংস্থাটি জানিয়েছে, বিশ্বকাপের প্রতিটি চার বছরের চক্র থেকে ক্যারিবিয়ান ফুটবল ইউনিয়নের মতো আঞ্চলিক সংগঠনগুলোকে সর্বোচ্চ ৫ কোটি ডলার পর্যন্ত অর্থায়ন করা হয়।
এদিকে ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে বিভিন্ন মহলে অসন্তোষ ক্রমেই প্রকাশিত হচ্ছে। মন্তাগলিয়ানি ছাড়াও উয়েফা সভাপতি আলেক্সান্ডার সেফেরিন এবং এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের সভাপতি শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল খলিফা তাঁর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। তিন ফিফা ভাইস প্রেসিডেন্ট ইনফান্তিনোর ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ পরিকল্পনা নিয়ে তাকে ‘প্রতারণা’র অভিযোগও করেছেন।
প্রকাশ্যে আসা তথ্য অনুযায়ী, ইনফান্তিনো ফিফার বহু বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্যিক কার্যক্রম একটি নতুন প্রতিষ্ঠানের অধীনে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। ঐ প্রতিষ্ঠানের ২০ শতাংশ মালিকানা বিনিয়োগকারীদের দেওয়ার কথা ছিল, যাদের নেতৃত্বে ছিলেন জ্যারেড কুশনারের ভাই জোশুয়া কুশনার।
বিশ্বজুড়ে ফুটবল কর্মকর্তাদের তীব্র বিরোধিতার মুখে, ১ আগস্ট ইনফান্তিনো ওই প্রস্তাবটি প্রত্যাহার করে নেন। পরে ফিফার প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা কেভিন লামর প্রকাশ্যে প্রস্তাবটির পাশাপাশি ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের ধরন নিয়েও সমালোচনা করেন। এর পর চলতি সপ্তাহে তাকে বরখাস্ত করা হয়।
ইনফান্তিনোকে ঘিরে ক্ষমতার এই দ্বন্দ্বে ক্যারিবিয়ান অঞ্চল গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। সংশ্লিষ্ট ফেডারেশনগুলোকে ইনফান্তিনোর সম্ভাব্য সমর্থক হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল কনফেডারেশন কনমেবলও ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। ২০৩০ বিশ্বকাপে ম্যাচের সংখ্যা বাড়িয়ে ৪৮ থেকে ৬৪টি করার পরিকল্পনায় ইনফান্তিনোর সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
২৮ জুলাই ২০ বিলিয়ন ডলারের ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ প্রকল্পের খবর প্রকাশ হওয়ার পর থেকে ইনফান্তিনো এখনো প্রকাশ্যে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হননি। শুক্রবার পুন্টা কানায় স্কাই নিউজের সাংবাদিক জেমস ম্যাথিউজ তাকে প্রশ্ন করেন, তিনি ফুটবলের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন কি না এবং তার পদত্যাগ করা উচিত কি না। ইনফান্তিনো সরাসরি প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে সাংবাদিককে ধন্যবাদ জানান এবং দুজনেরই টাক মাথা নিয়ে রসিকতা করেন।
ফিফা সভাপতি হিসেবে চতুর্থ ও শেষ মেয়াদে দায়িত্ব পালন করতে চান ইনফান্তিনো। এতে তিনি ২০৩১ সাল পর্যন্ত পদে থাকার সুযোগ পাবেন। আগামী মার্চে মরক্কোর রাজধানী রাবাতে ফিফা কংগ্রেসে নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। প্রার্থিতা জমা দেওয়ার শেষ সময় ১৮ নভেম্বর।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন