প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন সক্ষমতা দ্রুতগতিতে বাড়ানোর জন্য পেন্টাগন ড্রোন-বহরের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে। এই লক্ষ্যে সবচেয়ে সম্ভাবনাময় নির্মাতাদের খুঁজে বের করতে 'ড্রোন ডমিন্যান্স' নামে একটি প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয়েছে, যার মেয়াদ ১৮ মাস।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম 'ওয়াশিংটন পোস্ট'-এর এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কম খরচের যুদ্ধবিমানের একটি বিশাল বহর গড়ে তোলার লক্ষ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনী এখন ঐতিহ্যবাহী বড় প্রতিরক্ষা জায়ান্টদের গণ্ডি পেরিয়ে নতুন স্টার্টআপগুলোর দিকে ঝুঁকছে। এই স্টার্টআপগুলোর প্রতিষ্ঠাতা মূলত ড্রোন রেসার, শৌখিন ড্রোন চালক এবং এমন কিছু কোম্পানি, যাদের কাজ গলফ কোর্স পর্যবেক্ষণ করা অথবা আকাশে আলোক প্রদর্শনীর আয়োজন করা।
ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রেক্ষাপটে যুদ্ধক্ষেত্রে ছোট ও সস্তা ড্রোনের ভূমিকা ক্রমবর্ধমান হয়ে পরেছে। তাই এটি জরুরি মনে করছে পেন্টাগন, যে যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন সক্ষমতা দ্রুত বাড়াতে হবে।
এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বিজয়ী কোম্পানিগুলোকে ৩০ লাখ পর্যন্ত ড্রোন তৈরির জন্য ১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারের চুক্তির অংশীদার করা হবে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন বড় বিনিয়োগের প্রস্তাব করেছে, যেখানে ড্রোন যুদ্ধ প্রোগ্রামকে নাটকীয়ভাবে প্রসারিত করতে আগামী বছরের প্রতিরক্ষা বাজেটে ৫৪ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার চাওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
ওয়াশিংটন পোস্টের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিযোগিতায় শীর্ষস্থান ধরে রাখাদের মধ্যে ক্যালিফোর্নিয়ার স্টার্টআপ 'নেরোস' রয়েছে, যার প্রতিষ্ঠাতা সাবেক ড্রোন রেসিং বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন সোরেন মনরো-অ্যান্ডারসন। এছাড়া ইউক্রেনীয় ড্রোন প্রস্তুতকারকের অংশীদার ব্রিটিশ কোম্পানি 'স্কাইকাটার'-ও প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করছে।
পরীক্ষামূলক এই ড্রোনগুলো ক্রমশ সাশ্রয়ী, যেকোনো একটি ড্রোনের খরচ প্রায় ৫ হাজার ডলার। এগুলো যুদ্ধক্ষেত্রে একবার ব্যবহার উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে এবং ড্রোন রেসিংয়ে ব্যবহৃত প্রযুক্তির আদলে এগুলো উচ্চ গতিতে চলতে পারে এবং নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।
বিজয়ী নির্বাচনের জন্য পেন্টাগন কিছু চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে, যেখানে সামরিক কর্মীরা দূরপাল্লার হামলায় ড্রোনের কার্যকারিতা পরীক্ষা করছেন। তাদের লক্ষ্য হলো ঐতিহ্যবাহী বড় প্রতিরক্ষা ঠিকাদারদের সুবিধা দেওয়া দীর্ঘায়িত ক্রয় প্রক্রিয়া এড়িয়ে দ্রুত উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করা।
চলতি বছরের শুরুতে জর্জিয়ার ফোর্ট বেনিংয়ে অনুষ্ঠিত প্রথম রাউন্ডে ২৬টি কোম্পানি অংশগ্রহণ করেছিল। ওই রাউন্ডে 'স্কাইকাটার' শীর্ষ পারফর্মার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে এবং আড়াই হাজারের বেশি ড্রোনের সবচেয়ে বড় অর্ডারটি লুফে নেয়।
প্রতিযোগিতার পরবর্তী রাউন্ড ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে গ্যারেজ ও ছোট ওয়ার্কশপে শুরু হওয়া স্টার্টআপগুলো এখন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ সামরিক ড্রোন প্রোগ্রামে জায়গা পাওয়ার জন্য প্রতিযোগিতা করছে।
পেন্টাগন কর্মকর্তাদের মতে, ভবিষ্যতের যুদ্ধগুলো মূলত এমন সাশ্রয়ী মূল্যের ড্রোনের ঝাঁকের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল হতে যাচ্ছে।
সূত্র: এনডিটিভি
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন