প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বেড়া উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে টয়লেটের উপস্থিতি রয়েছে, তবে শিক্ষার্থীদের তুলনায় তা যথেষ্ট নয়। কিছু বিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্নতার অভাবের কারণে টয়লেট ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠানে আলাদা পরিচ্ছন্নতা কর্মী নেই এবং নিয়মিত পানি, সাবান ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়নি। এই কারণে শিশুরা প্রয়োজনের সময় টয়লেট ব্যবহারে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে, যা স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে। বেড়া উপজেলায় ১১২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ওয়াশ (পানি, স্যানিটেশন ও পরিচ্ছন্নতা) ব্যবস্থায় এই ঘাটতি লক্ষ্য করা গেছে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বেড়া উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১১২টি। এসব বিদ্যালয়ে অবকাঠামোর অভাব, রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতি এবং শিক্ষার্থীদের তুলনায় টয়লেটের সংখ্যা কম—এসব সমস্যা বিদ্যমান।
হাতিগাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৪৭৯ জন শিক্ষার্থী রয়েছে, যার মধ্যে ১৯১ জন ছেলে এবং ২২৮ জন মেয়ে। তাদের জন্য মাত্র ৪টি পুরাতন টয়লেট রয়েছে। টয়লেটের সংখ্যা কম হওয়ায় সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে সমস্যা হচ্ছে। দুর্গন্ধের কারণে অনেক সময় শিক্ষার্থীদের টয়লেট ব্যবহার করতে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। ২০১২-২০১৩ অর্থবছরে জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে নির্মিত দুই রুম বিশিষ্ট একটি টয়লেট অবকাঠামোগত ত্রুটির কারণে বর্তমানে পরিত্যক্ত হয়ে আছে।
হাতিগাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হেদায়েততুল্লাহ জানান, বিদ্যালয়ে টয়লেট থাকলেও আলাদা পরিচ্ছন্নতা কর্মী নেই। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় টয়লেট পরিষ্কার করা হয়। শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনুযায়ী টয়লেটের সংখ্যা কম হওয়ায় পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা রাখতে সমস্যা হয়। এই কারণে শিক্ষার্থীদের মাঝে সুস্থভাবে টয়লেট ব্যবহারের নিয়ম ও পরিচ্ছন্নতার ধারণা দেওয়া হয়। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসকে এ বিষয়ে অবগত করা হয়েছে এবং আশা করা হচ্ছে দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে।
হাতিগাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, টয়লেটে প্রায়ই দুর্গন্ধ থাকে এবং অনেক সময় পানি ও সাবান পাওয়া যায় না। ফলে টয়লেট ব্যবহারের পর হাত পরিষ্কার করার সুযোগ থাকে না। শিক্ষার্থী জীম ও আব্দুল্লাহ্ বলেন, টয়লেটের সংখ্যা কম হওয়ায় একজন ব্যবহার করলে অন্যদের অপেক্ষা করতে হয়। অধিক ব্যবহারের কারণে কখনো কখনো টয়লেটে দুর্গন্ধও হয়। তাদের মতে, নতুন ভবন ও পর্যাপ্ত টয়লেট হলে এই সমস্যা অনেকটাই কমবে।
তবে সব বিদ্যালয়ের সমস্যা একই নয়। পৌরসভার কিছু কিছু স্থানে অবস্থিত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে টয়লেটগুলো তুলনামূলক পরিচ্ছন্ন থাকলেও সেখানে মূল সমস্যা সংখ্যা ঘাটতি। ফলে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর জন্য এই অল্পসংখ্যক টয়লেট ব্যবহার করতে গিয়ে প্রতিদিন চাপ তৈরি হচ্ছে।
রাক সাফূল্লাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুলতান মাহমুদ মিয়া জানান, ৩৮৪ জন শিক্ষার্থীর জন্য বিদ্যালয়ে ৩টি টয়লেট রয়েছে, যার মধ্যে ছেলেদের জন্য ১টি ও মেয়েদের জন্য ২টি। টয়লেটের সংখ্যা কম হওয়ায় বর্তমানে সংস্কার করে ব্যবহৃত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে টয়লেট ব্যবহারের বিষয়ে সচেতন করা হয় এবং মা সমাবেশের মাধ্যমে অভিভাবকদেরও সচেতন করা হচ্ছে।
দুটি বিদ্যালয়ের চিত্রে সমস্যার ধরন আলাদা হলেও মূল সংকটটি একই—শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত ওয়াশব্যবস্থা নিশ্চিত করা। একটিতে রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতি, অন্যটিতে শিক্ষার্থীর তুলনায় টয়লেটের সংখ্যা কম। এর বাইরে উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতাও রয়েছে।
অভিভাবকরা বলছেন, শিশুদের শিক্ষার পাশাপাশি বিদ্যালয়ে নিরাপদ পানি, স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট ও হাত ধোয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। অভিভাবক ওয়াসিম, সবুজ ও মমিনের মতে, শুধু টয়লেট নির্মাণ করলেই হবে না, সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে এবং পর্যাপ্ত পানি ও সাবানের ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে শিশুদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। এ বিষয়ে বিদ্যালয়গুলোতে নিয়মিত তদারকির দাবি জানানো হয়েছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম সমস্যার কথা স্বীকার করেছেন। তার মতে, শিক্ষার্থীর তুলনায় টয়লেটের সংখ্যা কম—এটি সত্য। কিছু বিদ্যালয়ে অবকাঠামোগত সমস্যাও রয়েছে। উপজেলায় ইতোমধ্যে ৩৫টি বিদ্যালয়ের জন্য নতুন ভবনের আবেদন করা হয়েছে। নতুন ভবন হলে টয়লেটসহ অবকাঠামোগত কিছু সমস্যার সমাধান হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন