প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কৃষ্ণ সাগরের রাশিয়ার সোচি উপকূলের নিকটে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে নাভাল ড্রোনের হামলার ফলে ভয়াবহ আগুনের ঘটনা ঘটে। লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী ‘আফরাম্যাক্স রিও’ নামের জাহাজটিতে থাকা ২৩ ভারতীয় নাবিককে রাশিয়ার জরুরি উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হন। মঙ্গলবারের এই ঘটনার পর রাশিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয় জানায়, কোনো নাবিক আহত হয়নি।
রাশিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয় জানায়, মঙ্গলবার যখন জাহাজটি কৃষ্ণ সাগরে রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলের কাছে অবস্থান করছিল, তখন সেটিতে হামলা চালানো হয়। হামলার পর জাহাজটিতে আগুন লেগে যায় এবং তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে উদ্ধারকারী ও অগ্নিনির্বাপণ দলগুলো প্রথমে জাহাজটির খুব কাছে যেতে পারেনি। পরে আগুনের তীব্রতা কিছুটা কমলে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু হয়।
জাহাজটির ২৩ সদস্যের নাবিক দল সম্পূর্ণরূপে ভারতের নাগরিক ছিল। রুশ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর সময় পুরো জাহাজজুড়ে আগুন ছড়িয়ে পড়েছিল। প্রচণ্ড আগুন ও ধোঁয়ার মধ্যেও ঝুঁকি নিয়ে নাবিকদের একে একে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়। প্রাথমিকভাবে আহত হওয়ার কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
হামলার পর জাহাজটির অপরিশোধিত তেলও আগুনে জ্বলতে দেখা যায়। রুশ কর্তৃপক্ষ জানায়, আগুনের তীব্রতা কমলে অগ্নিনির্বাপণকারী দল জাহাজটির আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করতে সক্ষম হয়। তবে জাহাজটির ক্ষতির পরিমাণ এবং কতটা তেল পানিতে ছড়িয়ে পড়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
ঘটনার পর রাশিয়ার সোচির কাছের সিরিয়াস ফেডারেল টেরিটরির কর্তৃপক্ষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এলাকার সৈকতগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়। পাশাপাশি পানির গুণমান ও বাতাসে দূষণের মাত্রা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে বাতাসে দূষণকারী উপাদানের মাত্রা স্বাস্থ্যঝুঁকির সীমার নিচে রয়েছে।
রাশিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয় হামলাকারীর পরিচয় সরাসরি উল্লেখ করেনি। তবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রাশিয়ার কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে ঘটনাটিকে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হামলা হিসেবে উল্লেখ করেছে। এই হামলার পর কৃষ্ণ সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
একই দিনে কৃষ্ণ সাগরের বুলগেরিয়ার জলসীমার কাছেও দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে। একটি জাহাজ ডুবে গেছে এবং অপরটির নাবিকদের উদ্ধার করা হয়েছে। এসব ঘটনার ফলে কৃষ্ণ সাগরের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক নৌপথে নিরাপত্তাঝুঁকি আরও বেড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এর আগে কৃষ্ণ সাগরে তুরস্কের মালিকানাধীন ‘এমভি রয়াদ মাম্মাদভ’ নামের একটি বেসামরিক কার্গো জাহাজেও হামলা হয়। ওই ঘটনায় জাহাজটির ক্যাপ্টেন নিহত হন এবং ১১ নাবিককে উদ্ধার করা হয়। তাদের মধ্যে তিনজন ভারতীয় ছিলেন; ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছিল, তারা নিরাপদে আছেন এবং একজন আহত নাবিক চিকিৎসাধীন ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন