প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া থানা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে একটি চরম উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। অর্থনৈতিক অনিয়ম, শিক্ষক রাজনীতি, রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার এবং শ্রেণিকক্ষে অনিয়ন্ত্রিত প্রাইভেট বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে, বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক এবং সহকারী শিক্ষকদের মধ্যে এই মুখোমুখি অবস্থান তৈরি হয়েছে।
বুধবার (১৯ আগষ্ট) সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এস এম মজিবুর রহমান অভিযোগ করেন যে, ২০২২ সালে তৎকালীন ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা লিয়াকত আলী তালুকদার এবং তার অনুসারীদের প্রভাবে তাঁকে জিম্মি করে বিদ্যালয়ে নানা অনিয়ম চলছিল। তিনি বলেন, বরখাস্তকৃত সহকারী প্রধান শিক্ষক মোসাঃ হামিদা বেগমসহ কয়েকজন শিক্ষকের সমন্বয়ে গঠিত একটি চক্র ভূয়া কাগজপত্র তৈরি, জেলা পরিষদের অর্থ আত্মসাৎ এবং শিক্ষার্থীদের বেতন-ফি বাবদ আদায় করা প্রায় ১৪ লাখ ৯৮ হাজার ৫০০ টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেন।
প্রধান শিক্ষক উল্লেখ করেন, তাঁর বিরুদ্ধে পূর্বে দায়ের করা একটি মিথ্যা সিআর মামলা আদালত খারিজ করে দেওয়ার পর তিনি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও মানহানির পৃথক দুটি মামলা (মামলা নং সিআর ৬০/২৬ ও ২০১/২৬) দায়ের করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, যে অনিয়মে জড়িত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এবং মাসে ৭০-৮০ হাজার টাকা আয় করা চিকিৎসাতুল্য 'প্রাইভেট বাণিজ্য' বন্ধ করতে বাধ্য করা হয়েছে। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক কর্তৃক মোবাইল ব্যবহার ও অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগের বাধ্যবাধকতা আরোপ করায় একটি স্বার্থান্বেষী মহল তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে।
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি আরো জানান, গত ১৬ আগস্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. হাসিবুল হাসান কোনো পূর্ব নোটিশ বা লিখিত পত্র ছাড়া স্কুলে পরিদর্শনে আসেন। সেখানে প্রধান শিক্ষককে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে শিক্ষক ও সাংবাদিকদের সামনে অপমান করা হয় এবং কোনো রসিদ বা প্রমাণ ছাড়াই বিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ মূল কাগজপত্র নিয়ে যাওয়া হয়। পরদিন ১৭ আগস্ট ইউএনও শ্রেণিকক্ষে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সামনে বিদ্যালয়ে আর্থিক অনিয়ম হয়েছে বলে মন্তব্য করলে প্রধান শিক্ষক হেয় প্রতিপন্ন হন। ১৮ আগস্ট শিক্ষার্থীদের উসকে দিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে স্মারকলিপি দেওয়ানো হয়। এই ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও অপহৃত কাগজপত্র ফেরতের জন্য তিনি জেলা প্রশাসক ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার সরাসরি হস্তক্ষেপ দাবি করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. হাসিবুল হাসান জানান, একাধিক সহকারী শিক্ষকের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে এবং পূর্বেই প্রধান শিক্ষককে অবহিত করে তিনি সেখানে পরিদর্শনে যান। পরিদর্শনকালে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাস থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত বিদ্যালয়ের আয়-ব্যয়ের হিসাব চাওয়া হলেও প্রধান শিক্ষক তা উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হন। প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় বিষয়টির গভীর ও নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য ইতিমধ্যে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাঁর কাছ থেকে যে সব কাগজপত্র নেওয়া হয়েছিল তা তিনি ফেরত নিয়েছেন এবং প্রধান শিক্ষককে কোনো প্রকার অপমান বা অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়নি বলে জানান। ভাউচার পর্যালোচনা করে গভীর অসংগতি পরিলক্ষিত হয়েছে এবং তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিস্তারিত জানা যাবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন