প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় একটি সালিশ বৈঠকে মাদারীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য পীরজাদা সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালার উত্তেজিত আচরণের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রায় এক মিনিটের ওই ভিডিওতে তাকে টেবিল চাপড়ে উপস্থিত ব্যক্তিদের ধমক দিতে দেখা যায়। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, উপজেলার দত্তপাড়া ইউনিয়নের চর বাচামারা মৌলভীকান্দি গ্রামে স্থানীয় একটি মারামারির ঘটনাকে কেন্দ্র করে সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বৈঠকে বিএনপির কর্মী তারামিয়াসহ উভয় পক্ষের লোকজন উপস্থিত ছিলেন।
ভাইরাল ভিডিওতে এমপি হানজালাকে বলতে শোনা যায়, “কথা বললেন কেন? আপনারা এখানে কাউন্টার দিলেন কেন?” একপর্যায়ে তিনি টেবিল চাপড়ে বলেন, “এই মিয়া চুপ করেন, একেবারে খেয়ে ফেলবো। চুপ করেন। আমি আসছি বিচার করার জন্য। কাউন্টার দিলে আমি দিবো।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সালিশ বৈঠকে এক পক্ষের বিরুদ্ধে এক লাখ টাকা জরিমানা নির্ধারণ করা হলে উপস্থিত লোকজনের মধ্যে আলোচনা ও বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। এ সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সংসদ সদস্য ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান।
সালিশে উপস্থিত বিএনপি কর্মী তারামিয়া বলেন, ঘটনাটি প্রায় এক মাস আগের। বিচার চলাকালে তিনি সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি তুললে পরিস্থিতি উত্তেজনাকর হয়ে ওঠে।
তার ভাষ্য, “সালিশে শত শত মানুষ উপস্থিত ছিলেন। সেখানে বিচার নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে মতামত আসতেই পারে। একজন বিচারকের দায়িত্ব হলো সবার বক্তব্য ধৈর্যের সঙ্গে শোনা। আমি মনে করেছি, একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল, তাই প্রতিবাদ করেছি।”
তিনি আরও দাবি করেন, যাকে জরিমানা করা হয়েছে তিনি একজন অসচ্ছল ব্যক্তি এবং তার পক্ষে নির্ধারিত অর্থ পরিশোধ করা কঠিন।
স্থানীয়দের মতে, বৈঠকে বক্তব্য দেওয়া ও পাল্টা বক্তব্যকে কেন্দ্র করে একপর্যায়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় উপস্থিত এক ব্যক্তি মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করছিলেন। পরে ভিডিও ধারণ বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হলে ভিডিওটি সেখানেই শেষ হয়।
সম্প্রতি ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। বিভিন্ন মহল থেকে এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সংসদ সদস্য পীরজাদা সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা বলেন, “ঘটনাটি এক থেকে দেড় মাস আগের। এলাকার মানুষ আমাকে ছাড়া সালিশে বসতে চাইছিল না। পরে আমি সেখানে যাই। সালিশ চলাকালে উভয় পক্ষই তর্ক-বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতেই আমি ধমক দিয়েছি। তবে শেষ পর্যন্ত বিচার কার্যক্রম সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং বিষয়টির সমাধান হয়েছে।”
ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তবে সালিশ বৈঠকের পুরো ভিডিও প্রকাশ না পাওয়ায় ঘটনার পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট নিয়ে এখনও বিভিন্ন মতামত দেখা যাচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন