প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মাছে ভাতে বাঙালী। এই বাক্যটি একসময় পাঠ্য পুস্তকে অনেকেই পড়েছেন। সময়ের পরিক্রমায় পাঠ্য পুস্তকে পরিবর্তন এসে গেছে। অনেকেই তথ্যপ্রযুক্তির যুগে ভুলেও যেতে বসেছেন সেই বাক্যগুলো, যা পাঠ্য পুস্তকে পড়া হয়েছিল। তবে গ্রাম বাংলার সেই অপরূপ দৃশ্য এখনো অটুট রয়েছে। একসময় গরুর হাল দিয়ে জমিতে চাষাবাদ করা হত। বর্তমানে সেগুলো যান্ত্রিক উপায়ে চাষ হচ্ছে। কিন্তু বাঙালী আজও মাছ আহরণে মেতে উঠেছে। টানা বৃষ্টিপাতের ফলে গ্ৰামের পুকুর, জলাশয় ও আবাদী জমিগুলো এখন ভরা। এসব পানিতে অবাধে বিচরণ করছে দেশীয় মাছের নানান প্রজাতি। দল বেঁধে ট্রাক্টরের পেছনে ছুটে যাচ্ছে দেশীয় প্রজাতির নানা রকম মাছ। মাছগুলো আহরণে জমির মালিকের বাইরেও পাড়াপড়শিরা মাছ ধরার উৎসবে মেতে উঠেছে। বিরল উপজেলার ১০ নং রাণীপুকুর ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর গ্রামের একটি আবাদি জমিতে দান রোপনের জন্য ট্রাক্টর দিয়ে চাষ দেয়া হচ্ছিল। চাষের সময় ট্রাক্টরের ধারালো ফালের দ্বারা প্রথমে কয়েকটি ঢেলা (শাটি) মাছ কেটে ভেসে উঠলো। এই দৃশ্য দেখে এলাকায় মোকছেদ আলী মাছ ধরতে ট্রাক্টরের পেছনে ছুটলেন। কিছুক্ষণ পরে আরও কয়েকজন শিশু কিশোর আসলেন মাছ ধরতে। এরপর প্রতি জনই মাছ ধরতে নেমে পড়লেন। ট্রাক্টর চাষ দিতে চলেছে, আর পেছনে মাছ ধরতে ছুটছে সবাই। প্রায় অর্ধশতাধিক নারী-পুরুষ ও কিশোর-কিশোরী মাছ ধরতে নেমে এলাকা অন্যরকম উৎসবে পরিণত হলো। এইভাবেই প্রায়ই মাছের সন্ধানে চাষাবাদের ট্রাক্টরের পেছনে ছুটে যাওয়া মাছ আহরণ করতে দেখা যায়, যা স্মরণ করিয়ে দেয় সেই চিরচেনা বাক্য 'মাছে ভাতে বাঙালী'। এলাকার কৃষকেরা জানিয়েছেন, এখন ধান রোপনের মৌসুম। তাই জমি চাষাবাদ করতে হয়। ইরি-বোরো ধান কাটার পর দীর্ঘ সময় জমিগুলো পরে থাকে। আমন ধানের বীজতলা তৈরির পর বীজ বোপন থেকে চারাগাছ উত্তোলনের সময় পর্যন্ত আবাদি জমিগুলোতে পানি থাকে। এই পানি দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির মাছের ডিম ছাড়ার এবং বাচ্চা ফুটে বড় হওয়ার জন্য উপযুক্ত। ধানের চারাগাছ রোপণের পূর্বে চাষাবাদের সময় এই মাছ ধরার উৎসব হয়ে থাকে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন