প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বরগুনার পাথরঘাটা থানার তৎকালীন অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ এনামের বিরুদ্ধে এক নারী মামলার বাদীর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক ও আপত্তিকর আচরণের অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেওয়ার পর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের নির্দেশে ওই ওসিকে প্রশাসনিক কারণে ক্লোজড করে বরগুনা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
তদন্ত কমিটির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পাথরঘাটা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহেদ চৌধুরীকে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি।
ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “কোনো পুলিশ সদস্যের ব্যক্তিগত অনিয়ম বা অপকর্মের দায় বাংলাদেশ পুলিশ বহন করবে না। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকেই তার দায়ভার নিতে হবে এবং নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, গণমাধ্যমকর্মীরা দায়িত্বশীলতার সঙ্গে ঘটনাটি জনসমক্ষে তুলে ধরেছেন, যা প্রশাসনের নজরে এসেছে এবং দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণে সহায়তা করেছে।
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ডিআইজির দ্রুত পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। অনেকেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে তার ভূমিকার প্রশংসা করেছেন।
কী ঘটেছিল?
আদালতের নির্দেশে দায়ের করা একটি মামলার বাদী ফাতিমা জোমাদ্দার অর্পার অভিযোগ, গত ২০ মে বরগুনার এসিড অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. সাইফুর রহমান তার অভিযোগকে এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে পাথরঘাটা থানার ওসিকে নির্দেশ দেন।
তবে আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নে বিলম্ব করা হয় বলে অভিযোগ করেন অর্পা। তার দাবি, আদালতের আদেশ নিয়ে থানায় গেলে তিনি সহযোগিতার পরিবর্তে অপমানজনক আচরণের শিকার হন।
অর্পার ভাষ্য অনুযায়ী, ওসি মোহাম্মদ এনাম তাকে উদ্দেশ করে আপত্তিকর মন্তব্য করেন, যা উপস্থিত ব্যক্তিদেরও বিব্রত করে। এ সময় পাথরঘাটা উপজেলা বিএনপির নেত্রী ও সাবেক উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মরিয়ম চৌধুরী জেবু উপস্থিত ছিলেন বলে জানান তিনি।
মরিয়ম চৌধুরী জেবুও অভিযোগ করে বলেন, একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার কাছ থেকে এমন মন্তব্য অনাকাঙ্ক্ষিত এবং অগ্রহণযোগ্য।
হামলার অভিযোগ
অর্পা আরও অভিযোগ করেন, গত ১৮ জুন দুপুরে উপজেলার চরদুয়ানী এলাকা থেকে পাথরঘাটা থানায় আসার পথে মামলার প্রধান আসামি বাদশা আকনের লোকজন তার পথরোধ করে হামলা চালায় এবং তাকে একটি ঘরে আটকে রাখে। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পাথরঘাটা সার্কেল) মোহাম্মদ শাহেদ চৌধুরী জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাদীকে উদ্ধার করেছে এবং বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।
অর্পার অভিযোগ, মামলার প্রধান আসামিকে একদিন আগে আটক করা হলেও পরে ছেড়ে দেওয়া হয়। এর পরদিনই তিনি হামলার শিকার হন। হামলার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
জবাবদিহিতা ও শুদ্ধাচারে জোর
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, পুলিশি সেবার মানোন্নয়ন এবং বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে সততা ও পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করে আসছেন।
পাথরঘাটার ঘটনাতেও দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বার্তা দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন