প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মধ্য মে থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা তাপপ্রবাহ বইছে। এর মধ্যেই রাজশাহীতে গেল কয়েকদিন ধরে মৃদু তাপপ্রবাহ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে মাঝারিতে রূপ নিয়েছে। অতিরিক্ত তাপদাহের কারণে মানুষ, প্রাণী, ফসল ও প্রকৃতি সবকিছু ক্লান্ত হয়ে পড়েছে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাজশাহীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। আর আগের দিন বুধবার (৩ জুন) সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড হয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার (২ জুন) তাপমাত্রা ৩৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছিল। সোমবার (১ জুন) সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৭ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল। রোববার (৩১ মে) সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, তাপমাত্রা ৩৮ থেকে ৩৯ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে সেটিকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বলে এবং ৪০ থেকে ৪১ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে সেটিকে তীব্র তাপপ্রবাহ এবং ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হলে সেটি অতি তীব্র তাপপ্রবাহ বলা হয়।
রাজশাহীতে গরম বাড়ানোর কারণ হিসেবে মৌসুমি বায়ুর দেরিতে প্রবেশ এবং বঙ্গোপসাগর থেকে আসা অতিরিক্ত জলীয় বাষ্পের কথা উল্লেখ করা হচ্ছে। পাশাপাশি অপরিকল্পিত নগরায়নের কারণে কংক্রিটের আধিক্য ও গাছপালা কমে যাওয়ার ফলেও গরম বাড়ছে। দিনের ব্যাপ্তি দীর্ঘ থাকার কারণে ভূপৃষ্ঠ অতিরিক্ত উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।
সাধারণত জুন মাসের শুরুতেই মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বৃষ্টিপাত বাড়ে এবং তাপমাত্রা কমে যান। তবে মৌসুমি বায়ুর আগমন বিলম্বিত হওয়ায় মেঘমুক্ত আকাশে সূর্যের আলো সরাসরি ভূপৃষ্ঠকে উত্তপ্ত করছে। পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত পশ্চিমা লঘুচাপের বর্ধিত অংশও গরমের তীব্রতা বাড়াচ্ছে।
বর্তমানে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ অতিরিক্তভাবে বৃদ্ধি পেয়ে গেছে। একই সঙ্গে বাতাসের গতি কম থাকায় গরম বাতাস স্থির হয়ে থাকে। এই অবস্থায় শরীর থেকে ঘাম দ্রুত শুকায় না এবং প্রকৃত তাপমাত্রার চেয়েও বেশি গরম অনুভূত হয়।
পরিবেশবিদদের মতে, ঘনবসতি, অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং গাছপালা ও জলাশয় কমে যাওয়ার কারণে অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় রাজশাহী বেশি উত্তপ্ত হয়ে পড়ছে। গ্রীষ্মকালে দিনের বেলা বড় হওয়ার ফলে দীর্ঘ সময় ধরে সূর্যের তাপ ভূমিতে পড়ে এবং পরিবেশে তাপ জমে থাকে।
নগরের কয়েকটি এলাকা যখন ঘুরে দেখা হয়েছে, তখন সেখানে পিচগলা রাস্তায় একটু স্বস্তির খোঁজে পথচারীরা আখের রসের দোকানে ভিড় করছেন। চোখের সামনে কল থেকে বের করা শীতল এক গ্লাস আখের রস পান করছেন তারা। অতিরিক্ত গরমে তৃষ্ণা মেটাতে সাধারণ মানুষ ডাবও খেতে দেখা যাচ্ছে।
আবহাওয়ার সর্বশেষ উপাত্ত অনুযায়ী, রাতের আকাশ প্রধানত পরিষ্কার থাকলেও ভ্যাপসা গরম কাটছে না। রাতের তাপমাত্রা ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হলেও বাতাসের অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে শরীরে তা প্রায় ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মতো অনুভূত হচ্ছে। মধ্যরাতের দিকে তাপমাত্রা সামান্য কমে ২৯ থেকে ২৮ ডিগ্রিতে নামলে আর্দ্রতা প্রায় ৮৩ শতাংশ পর্যন্ত উঠে যাচ্ছে।
রিকশাচালক রহমত মিয়া জানান, রাস্তার পিচ থেকে মনে হচ্ছে আগুনের ভাপ উঠে৷ রিকশার সিটে বসা যায় না। একটু পর পর গলা শুকিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু পেটের দায়ে এই জানমারা গরমেও রিকশা নিয়ে বের হতে হচ্ছে।
ট্রাফিক কনস্টেবল মো. আসাদুজ্জামান জানান, মাথার ওপর চড়া রোদ আর চারপাশের গাড়ির গরম ইঞ্জিনের ধোঁয়ায় দম আটকে এসেছে। ডিউটি তো করতেই হবে, তাই পকেটে স্যালাইনের পানি রেখে একটু পর পর খেয়ে শরীরটা কোনোমতে টিকিয়ে রাখছি।
বিভিন্ন এলাকায় ঘুরলে দেখা যায়, প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। বাজার, সড়ক ও জনসমাগমস্থলগুলোতে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় মানুষের উপস্থিতি কম। তবে জীবিকার তাগিদে যাদের বাইরে থাকতে হচ্ছে, তাদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি। রিকশাচালক, ভ্যানচালক, নির্মাণ শ্রমিক, খেতমজুর ও দিনমজুররা কাজ করছেন খোলা আকাশের নিচে। কয়েকজন জানান, দুপুরের দিকে কাজ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রহিদুল ইসলাম জানান, টানা কয়েকদিন তাপদাহ চলছে। তবে তাপমাত্রা কমে আসবে। এর মধ্যে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন