প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-এর নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান মো. খুরশীদ আলমের পদত্যাগ এবং সাবেক এমডিকে ফিরিয়ে আনাসহ ৫ দফা দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় এলাকা।
আজ সোমবার (১ জুন) সকালে রাজধানীর দিলকুশায় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ‘সচেতন গ্রাহক ফোরাম’-এর ব্যানারে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়।
আন্দোলনরত গ্রাহকদের দাবি লক্ষ্য করা গেছে, এই ৫ দফা বাস্তবায়ন না হলে তারা দেশজুড়ে লাগাতার কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবেন। এদিকে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচিতে পুলিশের লাঠিচার্জ, জলকামান এবং টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ২৫ জন আন্দোলনকারী গ্রাহক আহত হয়েছেন বলে গ্রাহক সমাজ নিশ্চিত করেছে।
বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে সচেতন গ্রাহক ফোরামের প্রতিনিধিরা সাধারণ গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় ৫ দাবি উত্থাপন করেন–
১. খুরশীদ আলমের অপসারণ: এস আলম গ্রুপের অন্যতম সুবিধাভোগী ও সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশীদ আলমকে অবিলম্বে চেয়ারম্যান পদ থেকে অপসারণ করতে হবে।
২. সাবেক এমডি ওমর ফারুক খানকে পুনর্বহাল: ব্যাংকের পেশাদারিত্ব ও গতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সাবেক ম্যানেজিং ডিরেক্টর (এমডি) মুহাম্মদ ওমর ফারুক খানকে দ্রুত সপদে ফিরিয়ে আনতে হবে।
৩. যোগ্য নতুন গভর্নর নিয়োগ: দেশের ব্যাংকিং খাতের সংকট কাটাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংককের জন্য একজন যোগ্য ও নিরপেক্ষ নতুন গভর্নর নিয়োগ দিতে হবে, অথবা বর্তমান গভর্নরের পদত্যাগ নিশ্চিত করতে হবে।
৪. চাকরিচ্যুতদের প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ: ব্যাংকের শৃঙ্খলা রক্ষার্থে পূর্বে বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে চাকরিচ্যুত বা বিতর্কিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়সহ যেকোনো শাখার সামনে আসা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে হবে।
৫. লাগাতার কর্মসূচির আলটিমেটাম: এই দাবিগুলো অনতিবিলম্বে মেনে নেওয়া না হলে সাধারণ গ্রাহকেরা আমানতের সুরক্ষা এবং ব্যাংকের সুনাম রক্ষায় লাগাতার অবরোধসহ আরো কঠোর কর্মসূচিতে যাবেন।
চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমকে নিয়ে বিতর্ক ও ক্ষোভগুলো পরিষ্কার হচ্ছে। আন্দোলনকারী গ্রাহকদের মূল ক্ষোভ ব্যাংকের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান মো. খুরশীদ আলমকে ঘিরে। বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, খুরশীদ আলম বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর থাকাকালীন বিতর্কিত এস আলম গ্রুপকে ইসলামী ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটে নেওয়ার ক্ষেত্রে পরোক্ষ এবং প্রত্যক্ষভাবে সহায়তা করেছিলেন।
গত বছরের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের তীব্র ক্ষোভ ও আন্দোলনের মুখে খুরশীদ আলমসহ তৎকালীন চার ডেপুটি গভর্নর পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। গ্রাহকদের অভিযোগ হচ্ছে যে, এমন একজন বিতর্কিত ও ক্ষমতাচ্যুত ব্যক্তিকে দেশের সবচেয়ে বড় শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেওয়া অত্যন্ত রহস্যজনক এবং এর পেছনে পুনরায় ব্যাংকটি লুটের গভীর ষড়যন্ত্র কাজ করছে।
গ্রাহকদের প্রতিনিধিদের মধ্যে একজন জানান, সকাল থেকে গ্রাহকেরা ব্যানার এবং ফেস্টুন নিয়ে শান্তিপুর্ণভাবে ব্যাংকের সামনে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিচ্ছিলেন।
সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দিতে পুলিশ আজ অতর্কিতে অভিযান শুরু করে। একপর্যায়ে পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান ও টিয়ারগ্যাস ব্যবহার করে। এতে পুরো দিলকুশা এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
গ্রাহক সমাজের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুলিশের এই আকস্মিক বলপ্রয়োগে অন্তত ২৫ জন গ্রাহক আহত হয়েছেন। আহতদের সবাইকে তাৎক্ষণিকভাবে ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। এর মধ্যে গুরুতর আহত ২ জনকে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল কাকরাইল শাখায় ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া আরো ৫ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) স্থানান্তর করা হয়েছে।
পুলিশের প্রথম দফার বাধায় আন্দোলনকারীরা সাময়িক ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলেও পরবর্তীতে তারা আবারও ইসলামী ব্যাংক এলাকার আশপাশের রাস্তায় অবস্থান নেন। এই ঘটনার পর থেকে ব্যাংক পাড়ায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে বিপুল সংখ্যক অতিরিক্ত পুলিশ ও দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ব্যাংকের চারপাশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হলেও গ্রাহকদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ এবং উত্তেজনা কাজ করছে।
আন্দোলনকারীরা বলছেন আজ দুপুর আড়াইটায় ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদ সভায় কোনোভাবেই খুরশীদ আলমকে অংশগ্রহণ করতে দেবেন না। বিষয়টি নিশ্চিত করতে যতক্ষণ প্রয়োজন ততক্ষণ তারা ইসলামী ব্যাংকের সামনে অবস্থান করবেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন