প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ক্রিকেট কিংবা অন্য কোনও খেলা, ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ হলেই তা তৈরি করে আলাদা উন্মাদনা। দুই দেশের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ঈর্ষণীয় উত্তেজনা থাকে।
বক্সিংও এর ব্যতিক্রম নয়। গতকাল, রবিবার কমনওয়েলথ গেমসে পদকজয়ীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেখা করেছিলেন। সেখানেই এমন একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে আসে।
রবিবার ৭ নম্বর লোককল্যাণ মার্গে প্রধানমন্ত্রী মোদি কমনওয়েলথ গেমসে পদকজয়ী ভারতীয় ক্রীড়াবিদদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
সেখানে তিনি বক্সার নরেন্দ্র বেরওয়ালের মুখ থেকে ২০১৫ সালের একটি কাহিনি শোনেন। ওই কাহিনী শুনে সবাই, প্রধানমন্ত্রীর সহিত উপস্থিত সকলে হাসিতে ফেটে পড়ে।
সংবাদ প্রতিদিনের প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০১৫ সালে‘ওয়ার্ল্ড মিলিটারি গেমসে’ পাকিস্তানের এক বক্সারের বিরুদ্ধে প্রথম রাউন্ডে নামতে হয়েছিল বেরওয়ালকে। সেই ঘটনার কথা স্মরণ করে বেরওয়াল বলেন, ‘আমরা যখন পাকিস্তান নিয়ে কথা বলছি, তখন পুরনো একটা গল্প মনে পড়ে গেল।
২০১৫ সালে ‘ওয়ার্ল্ড মিলিটারি গেমস’ চলছিল। আমি পাকিস্তানের বক্সারের বিরুদ্ধে প্রথম রাউন্ডের জন্য প্রস্তুত ছিলাম। যেহেতু জওয়ানরাও এই খেলায় অংশগ্রহণ করেন, তাই সেনাকর্তারা আমাকে জানিয়ে দিয়ে ছিলেন, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জিততেই হবে।’
বেরওয়াল প্রত্যাশা পূরণ করতে সক্ষম হন। তিনি প্রথম রাউন্ডে ৪-১ এবং দ্বিতীয় রাউন্ডে ৩-২ ব্যবধানে জয়লাভ করেন।
লড়াইটি এতটাই সেয়ানে সেয়ানে ছিল যে, দুই বক্সারের মুখের কিছু অংশে আঘাত লাগে। ফলে ম্যাচের পর একই গাড়িতে দু’জনকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। আর সেখানেই ঘটে একটি amusing ঘটনা।
একটি সময় পাক বক্সার বেরওয়ালকে বলেন, ‘ভাই, একটা কথা বলব?’ বেরওয়াল প্রাথমিকভাবে রাজি হন। ঠিক তখন পাক বক্সার বললেন, ‘২০১৪ সালে আপনি প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন। আমাদের কোচের নাম ছিল নরেন্দ্র রানা। তোমার নাম নরেন্দ্র, তোমার কোচের নাম নরেন্দ্র, তোমার প্রধানমন্ত্রীর নাম নরেন্দ্র। এই নরেন্দ্র নামটার প্রতি আমার ঘেন্না জন্মে গিয়েছে।’
পাক বক্সারের এমন মন্তব্য শুনে প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং পদকজয়ী অ্যাথলিটরা হেসে ওঠেন। রবিবার প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে উপস্থিত ছিলেন কমনওয়েলথ গেমসে পদকজয়ী ক্রীড়াবিদরা। এছাড়া ভারতীয় অলিম্পিক সংস্থার প্রধান পিটি ঊষা সহ অন্যান্য কর্তাপর্যায়ের কর্মকর্তারাও সেখানে ছিলেন। এবারের কমনওয়েলথ গেমসে ভারত মোট ৩৯টি পদক জিতেছে, যার মধ্যে ১৩টি সোনা, ১৭টি রুপো এবং ৯টি ব্রোঞ্জ পদক। সবচেয়ে বেশি পদক এসেছে বক্সিং খেলা থেকে।
মীরাবাঈ চানু, অস্মিতা দে, সাক্ষী চৌধুরী, নীরজ চোপড়া, লভলিনা বরগোহাঁইসহ পদকজয়ী ক্রীড়াবিদদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী কথা বলেন। তিনি তাঁদের লড়াইয়ের গল্প শোনেন। আগামী দিনের জন্য শুভেচ্ছা জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী তাঁদের সঙ্গে ছবি তোলেন। পরে ছবি সোশাল মিডিয়ায় শেয়ার করে মোদি লেখেন, ‘যারা খেলবে, তারাই জীবনে সফল হবে।’
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে খুশিতে উল্লাসিত ক্রীড়াবিদরা। বক্সিংয়ে সোনাজয়ী সাক্ষী জানান, ‘কমনওয়েলথে পদকজয়ীদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। আমরা গর্বিত। উনার সঙ্গে দেখা করার অভিজ্ঞতা অসাধারণ। উনি মাটির মানুষ। আমাদের অনেক পরামর্শ দিয়েছেন। উনার সঙ্গে দেখা করতে পেরে খুব খুশি হয়েছি।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন