প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
হযরত শাহজালাল (রহ.) এর মাজারের দানবাক্সে এবার পাওয়া গেছে ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা। এছাড়া সেখানে সোনা-রূপা এবং বিভিন্ন দেশের মুদ্রাও পাওয়া গেছে।
শনিবার সকালে, প্রায় ৩৪ দিন পর, মাজার কর্তৃপক্ষ তিনটি ডেগ ও তিনটি বাক্স খুলে দানের টাকা জড়ো করে। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে গণনা শুরু হয়, যা চলতে থাকে প্রায় ৭ ঘণ্টা ধরে। ৩০ জন স্বেচ্ছাসেবী এই টাকা গণনা করেন।
সন্ধ্যা ৬টার দিকে আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, যিনি মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত উচ্চ কমিটির সদস্য এবং সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, তিনি দানের হিসাব ঘোষণা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, এবার দানবাক্সে ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকার পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রাও পাওয়া গেছে। বৈদেশিক মুদ্রাগুলোর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাজ্যের ৩১.১১ পাউন্ড, ভারতীয় ৩ হাজার ২৪৮ রুপি, পাকিস্তানি ৬০ রুপি, সৌদি ৭০ রিয়াল, মালেশিয়ান ৮৩ রিঙ্গিত, আমেরিকান ৪ ডলার, নেপালি ১০০ রুপি, ওমানী ১ রিয়াল, আরব আমিরাতের ৬৪.২২ দিরহাম, ইরাকি ২৫০ দিনার, তুর্কি ৯০ লিরা, ভিয়েতনামী ১০০০ ডং, জাপানি ১০০০ ইয়েন, কাতারের ১১২.৫০ রিয়াল, লেবাননী ১০ পাউন্ড, মিশরী ১০ পাউন্ড, দশমিক ৪০ ইউরো, বাহরাইনের ০.১ দিনার এবং কানাডিয়ান ১ ডলার। এছাড়া, ২ ভরি ১ রতি সোনা ও ১ ভরি ২ আনা রূপাও পাওয়া গেছে।
অনেকেই বিভিন্ন প্রত্যাশা নিয়ে চিঠি লিখেছেন। এই চিঠিগুলোতে পারিবারিক অশান্তি, পরিবারে মাদকের ভয়াবহতা এবং রাজনৈতিক প্রত্যাশা উঠে এসেছে।
তবে দানের গরু, ছাগলসহ পশুর হিসাব ঘোষণা করা হয়নি। এসব পশুর তথ্য এখনো মাজার কর্তৃপক্ষের কাছে রয়েছে বলে জানান আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।
সিলেটের তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম প্রথমবার মাজারের আয় ব্যয়ে স্বচ্ছতা আনতে উদ্যোগ নেন। গত ১২ জুন বেলা দেড়টার দিকে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার পরিদর্শন করেন তিনি।
জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে, ঐতিহ্যবাহী হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের আয়-ব্যয় ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সেখানে দানবাক্সে তালা দেয়া হয়। এরপর ১৮ জুন বিকেল চারটার দিকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মাসুদ রানার উপস্থিতিতে নতুন দানবাক্স স্থাপন করে জেলা প্রশাসন।
পরে ২২ জুন প্রথমবারের মতো মাত্র ৪ দিনের জমা হওয়া দানের টাকা গণনা করা হয়। এদিন গণনায় নগদ ১৭ লাখ ৫৪৯ টাকা পাওয়া যায়। ১৮ দিন পর দ্বিতীয় দফায় গত ১১ জুলাই খোলা হয় দানবাক্স। সেদিন নগদ ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা পাওয়া যায়। এই সময়ে একাধিক দেশের মুদ্রা, স্বর্ণালংকারসহ নানা সামগ্রীও পাওয়া যায়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন