প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার উপকূলীয় গাবুরা ইউনিয়নে নদীর বাঁধ কেটে বসানো ‘নাইনটি’ পাইপ উচ্ছেদে অভিযান শুরু করেছে প্রশাসন। দীর্ঘদিন ধরে ঘের মালিকদের নদী থেকে লবণাক্ত পানি উত্তোলনের জন্য ব্যবহৃত এসব পাইপ নতুন নির্মিত বেড়িবাঁধের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠেছিল। অবশেষে জনসচেতনতা, স্থানীয়দের প্রতিবাদ এবং গণমাধ্যমে বিষয়টি তুলে ধরার পর প্রশাসন উচ্ছেদ অভিযানে নামে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘের মালিকরা নদী থেকে লবণাক্ত পানি তুলতে বাঁধ কেটে পাইপ বসিয়ে আসছিলেন। স্থানীয়ভাবে এসব পাইপ ‘নাইনটি’ নামে পরিচিত। সম্প্রতি গাবুরায় নির্মাণাধীন নতুন কংক্রিটের বেড়িবাঁধের বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য পাইপ বসানো হয়, যা বাঁধের স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করে।
বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত হলে স্থানীয় বাসিন্দা, বিশেষ করে তরুণ সমাজ, এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়। মানববন্ধনের ডাকসহ নানা কর্মসূচির মাধ্যমে তারা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
এরপর সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিরা জানান, ৭ ও ৮ জুলাই নাইনটি উচ্ছেদে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হবে। ঘোষণার পর অনেক ঘের মালিক রাতের মধ্যেই স্বেচ্ছায় তাদের পাইপ সরিয়ে নেন।
মঙ্গলবার সকালে গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নিজ উদ্যোগে কয়েকটি পাইপ অপসারণ করেন। পরে প্রতিকূল আবহাওয়া ও বৃষ্টির মধ্যেও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে প্রশাসনের একটি দল নদী পেরিয়ে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে প্রথম দিনে একটি এলাকায় অভিযান সীমাবদ্ধ থাকলেও আগামী দিনগুলোতে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের দাবি, গাবুরায় প্রায় *১,০২০ কোটি টাকা* ব্যয়ে নির্মাণাধীন টেকসই বেড়িবাঁধ উপকূলবাসীর জীবন ও সম্পদ রক্ষার অন্যতম ভরসা। তাই বাঁধ কেটে পাইপ বসিয়ে ক্ষতিসাধনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
উপকূলবাসীর ভাষ্য, বাঁধ কেটে লবণাক্ত পানি প্রবেশের ব্যবস্থা করা শুধু আইন লঙ্ঘনই নয়, এটি জনস্বার্থ ও জননিরাপত্তার পরিপন্থী একটি গুরুতর কাজ। ভবিষ্যতে যাতে কেউ আর বাঁধে ‘নাইনটি’ পাইপ বসাতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এদিকে স্থানীয়দের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সচেতন মহল বলছে, ঘেরে পানি নেওয়ার বিকল্প ব্যবস্থা রয়েছে। তাই সাময়িক সুবিধার জন্য কোটি কোটি টাকার বেড়িবাঁধ ঝুঁকির মুখে না ফেলে সবাইকে আইন মেনে চলতে হবে। উপকূল রক্ষায় প্রশাসন ও জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগই হতে পারে স্থায়ী সমাধান।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন