প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৯ জন শিক্ষার্থী ফরম পূরণের টাকা জমা দেওয়ার পরেও প্রবেশপত্র না পাওয়ার কারণে এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনে চরম ভোগান্তির শিকার হন। কলেজ কর্তৃপক্ষের গাফিলতির ফলে পরীক্ষাকেন্দ্রে গিয়ে তারা দীর্ঘ সময় অনিশ্চয়তা মোকাবিলা করতে বাধ্য হন, তবে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপের মাধ্যমে তারা শেষ পর্যন্ত পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পান।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজের পরীক্ষাকেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। সার্ভে অনুসারে দেখা গেছে, প্রবেশপত্র ছাড়া কেন্দ্রে প্রবেশের চেষ্টা করলে দায়িত্বরত কর্মকর্তারা শিক্ষার্থীদের আটকে দেন। এতে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। খবর পেয়ে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমান ঘটনাস্থলে পৌঁছে কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবহিত করেন।
পরে সিলেট শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের সঙ্গে যোগাযোগ করার ফলে বোর্ডের বিশেষ অনুমতির মাধ্যমে বিলম্বিত সময়ে ওই শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পায়। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা বলেন, দেরিতে পরীক্ষায় অংশ নিতে হওয়ায় তারা মানসিক চাপের মধ্যে প্রতিস্পদ্ধা করেন। কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত ২০ মিনিট সময় দিলেও সেটি তাদের জন্য পর্যাপ্ত ছিল না বলে তারা উল্লেখ করেছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীরা হলেন—মানবিক বিভাগের শারমিন আক্তার, মাসুমা আক্তার, তানিয়া আক্তার, আয়েশা আক্তার নাজমিন, দিপা কাহার, পল্লবী ঠাকুরিয়া, শ্রাবন্তী শীল এবং অনিয়মিত পরীক্ষার্থী বৃষ্টি আক্তারসহ মোট ৯ জন। কলেজের অধ্যক্ষ অসিত রঞ্জন পাল এই ঘটনার দায় স্বীকার করে বলেন, প্রবেশপত্র না আসার বিষয়টি তিনি জানতেন না। এ ঘটনার জন্য কম্পিউটার অপারেটর অনিক দেব এবং নিজেকে দায়ী মনে করেন তিনি।
শ্রীমঙ্গল উপজেলার ইউএনও মো. জিয়াউর রহমান বলেন, এটি স্পষ্টতই দায়িত্বহীনতার ফল। খবর পাওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে কেন্দ্রে এসে বিষয়টি তদন্ত করে সিলেট শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। বোর্ডের অনুমতি পাওয়ার পর জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টদের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে।
তিনি আরো জানান, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে অভিযুক্ত কম্পিউটার অপারেটর অনিক দেবের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।
ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। পরীক্ষার সময় এমন অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হয়ে তারা শিক্ষাজীবন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। সঙ্গে সঙ্গে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবকরা ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন