প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট সম্পর্কে কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য আমির হামজা বলেছেন, এই বাজেট অনেকটা চানাচুর মার্কার মতো; এটি শুনতে ভালো লাগলেও খেলে পেট খারাপ হয়।
বুধবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। অধিবেশনটি অনুষ্ঠিত হয় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে।
আমির হামজা আরও বলেন, জাতীয় বাজেট জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করার মাধ্যম হওয়া উচিত। রাষ্ট্রের আয় বৃদ্ধির জন্য কর প্রশাসনকে আধুনিকায়ন করার প্রয়োজন রয়েছে এবং কর ফাঁকি ও অর্থপাচার রোধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা দরকার।
তিনি সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত করের বোঝা না বাড়িয়ে নতুন ক্ষেত্র খুঁজে বের করার পরামর্শ দেন। এ ছাড়া দেশের বড় সমস্যা বেকারত্ব মোকাবেলা করতে শিল্পায়নে বিশিষ্ট গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।
শিক্ষা খাতে বরাদ্দের সমালোচনা করে এই সংসদ সদস্য বলেন, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণার জন্য বাজেট আরও বাড়ানোর প্রয়োজন। এছাড়াও, মাদ্রাসা শিক্ষার অবহেলার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিমদের মাদ্রাসাগুলো যুগ যুগ ধরে অবহেলিত রয়েছে। এবতেদায়ী মাদ্রাসা এবং প্রতিটি জেলা শহরে একটি করে ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসা জাতীয়করণের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
কৃষকদের জন্য স্বল্পমূল্যে সার, বীজ এবং শুল্কমুক্ত কৃষি সরঞ্জাম সরবরাহের দাবি জানান আমির হামজা।
রেল যোগাযোগ আধুনিকায়নের ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করে বলেন, কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ২০-২২ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। এই শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে রেললাইন চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে শুনলেও, এখনও কার্যকর কিছু দেখা যাচ্ছে না। আগামী বাজেটে যেন এটি বাস্তবায়িত হয়, এই বিষয়ে তিনি জোর দেন।
বাজেট নিয়ে সরকারের দাবির সমালোচনা করে আমির হামজা বলেন, সরকার বলছে বাজেট নিয়ে নাকি আনন্দের বন্যা বইছে। অথচ বাজেট উপস্থাপনের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বিগত সময়ের মতো এবারের বাজেটের অর্থও যেন সরকারি দলের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা পাচার করতে না পারে, সেই নিশ্চয়তা দাবি করেন তিনি।
এছাড়াও, আমির হামজা আরও বলেন, গতানুগতিক কথায় সমস্যার সমাধান হবে না। অর্থপাচার ঠেকাতে সরকারের সুনির্দিষ্ট কোনো পলিসি জনগণের সামনে স্পষ্ট নয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন