প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ফুটবলের বিশ্বমঞ্চে সাধারণত দেশপ্রেমের জয়গান শোনা যায়, কিন্তু এবারের বিশ্বকাপ ফুটবল যেন কিছুটা ব্যতিক্রমী গল্পের জন্ম দিয়েছে।
একদিকে যখন জাতীয় দলের জার্সি গায়ে লড়াইয়ের প্রস্তুতি চলছে, অন্যদিকে তখন পরিবারের অন্দরে শুরু হয়েছে এক অদ্ভুত দোলাচল। এবারের বিশ্বকাপে এমন চারটি সেটের সন্ধান পাওয়া গেছে, যেখানে আপন ভাইয়েরা খেলছেন ভিন্ন ভিন্ন দেশের হয়ে। বাবা-মায়ের জন্য এটি যে চরম এক অগ্নিপরীক্ষা, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
এই ভ্রাতৃদ্বন্দ্বের তালিকায় প্রথমেই উঠে আসে ডুয়ে পরিবারের নাম। দুই ভাই দেজিরে ও গুয়েলা ডুয়ে। ফ্রান্সের অঁজে শহরে জন্ম নেওয়া এই দুই ভাই বর্তমানে ক্লাব ফুটবলে প্যারিস সেন্ট জার্মেইন এবং স্ত্রাসবুর্গের হয়ে খেললেও, আন্তর্জাতিক ফুটবলের আঙিনায় বেছে নিয়েছেন আলাদা পথ। ২১ বছর বয়সী দেজিরে খেলছেন ফ্রান্সের হয়ে, আর ২৩ বছর বয়সী গুয়েলা প্রতিনিধিত্ব করছেন আইভরি কোস্টের। ভাগ্যের লিখন যদি সহায় হয়, তবে আগামী ৩০ জুন আর্লিংটনে নকআউট পর্বে মুখোমুখি হতে পারেন এই দুই ভাই। যদিও এর আগে প্রীতি ম্যাচে মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ এসেছিল, তবে দেজিরে মাঠে না নামায় সেবার আর ভাইয়ের মুখোমুখি লড়াই দেখা হয়নি গুয়েলার।
এদিকে স্পেন ও ঘানার লড়াইয়ে ফুটবলপ্রেমীরা সাক্ষী হতে যাচ্ছেন উইলিয়ামস ভ্রাতৃদ্বয়ের লড়াইয়ের। ইনাকি ও নিকো উইলিয়ামস; দুই ভাই জন্মসূত্রে বাস্ক হলেও জাতীয় দলের জার্সি নির্বাচনের ক্ষেত্রে নিয়েছেন ভিন্ন সিদ্ধান্ত। স্পেনের হয়ে খেলা নিকো ইতোমধ্যেই নিজেদের প্রমাণ করেছেন, অন্যদিকে বড় ভাই ইনাকি খেলছেন ঘানার জার্সিতে। একই রকম চিত্র দেখা যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া ও স্কটল্যান্ডের ক্ষেত্রে। হ্যারি সুটার খেলছেন অস্ট্রেলিয়ার হয়ে, অথচ তার ভাই জন সুটার লড়ছেন স্কটল্যান্ডের জার্সি গায়ে। এমনকি নেদারল্যান্ডস ও ঘানার মধ্যকার দ্বন্দ্বেও উঠে এসেছে এমন এক বিরল দৃশ্য, যেখানে ডাচ বংশোদ্ভূত ডেরিক লাকাসেন খেলছেন ঘানার হয়ে, আর তার সৎ ভাই ব্রায়ান ব্রোবি প্রতিনিধিত্ব করছেন নেদারল্যান্ডসের।
বিশ্বকাপের মঞ্চে আপন ভাইদের প্রতিপক্ষের ভূমিকায় দেখার বিষয়টি অবশ্য একেবারেই নতুন নয়। এর আগে ২০১০ এবং ২০১৪ বিশ্বকাপে জেরোম বোয়েটাং ও কেভিন-প্রিন্স বোয়েটাংয়ের মুখোমুখি লড়াই ফুটবল বিশ্ব দেখেছে। তবে এবারের আসরে যেন এই প্রবণতা আরও বেশি প্রকট হয়ে উঠেছে। ভিন্ন ভিন্ন দলের হয়ে মাঠে নামা এই খেলোয়াড়রা যখন নিজেদের দেশের হয়ে লড়বেন, তখন গ্যালারিতে থাকা তাদের বাবা-মায়ের হৃদস্পন্দন যে দ্বিধাবিভক্ত হবে, তা বলাই বাহুল্য। মাঠের লড়াইয়ে একে অপরের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী হলেও, রক্ত আর পরিবারের টান যে সবকিছুর ঊর্ধ্বে, তা বারবার প্রমাণ করে চলেছেন এই তারকারা। মূলত জয়ের তাড়না আর জাতীয় দলের প্রতি দায়বদ্ধতা তাদের বাধ্য করছে আপন ভাইয়ের বিপক্ষেই রণকৌশল সাজাতে। এই অদ্ভূত সমীকরণই এবারের বিশ্বকাপকে নিয়ে গেছে এক ভিন্ন উচ্চতায়।
সূত্র: বিবিসি
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন