প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দেশের প্রায় ৪৮টি জেলায় গত কয়েকদিন ধরে মৃদু থেকে মাঝারি ধরণের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। চলতি বছর এত জেলায় এক দিনে এমন তাপপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেনি।
আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্য বলছে, যে তাপপ্রবাহ শুরু হয়েছে, তা আগামীকালও থাকতে পারে। তবে আগামী শনিবার থেকে তাপমাত্রা কমতে থাকবে।
বৃহস্পতিবার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, চাঁদপুর, নোয়াখালী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলাসহ রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া মৃদু থেকে মাঝারি ধরণের তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে। বাতাসে জলীয় বাষ্পের আধিক্যের কারণে জনজীবনে অস্বস্তিকর অবস্থা বিরাজ করতে পারে।
আজ দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং অন্যত্র তা প্রায় অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে সারাদেশে রাতের তাপমাত্রাও প্রায় অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে আবহাওয়া অধিদফতরের আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবীর বলেন, এখন বাংলার জৈষ্ঠ মাসের প্রায় শেষ পর্যায় চলছে। সাধারণত মার্চ থেকে জুন মাস পর্যন্ত গ্রীষ্মকাল এবং মৌসুমি বায়ু আসার আগ পর্যন্ত এই সময়ে সবচাইতে বেশি গরম থাকাটাই স্বাভাবিক। বর্তমানে বাতাস দক্ষিণ দিক থেকে আসার কারণে এতে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প বা ময়েশ্চার রয়েছে। বাতাসে ময়েশ্চার বেশি থাকলে বাতাসের তাপ ধারণ ক্ষমতা বেড়ে যায়, যার ফলে চারপাশের বাতাস তুলনামূলকভাবে বেশি উত্তপ্ত থাকে।
তিনি বলেন, এর পাশাপাশি ময়েশ্চার বেশি হওয়ার কারণে শরীর থেকে সহজে ঘাম শুকাচ্ছে না, যা জনজীবনে অস্বস্তিকর অবস্থা তৈরি করেছে।
এ আবহাওয়াবিদ আরও বলেন, রাতের তাপমাত্রা ও শারীরিক অস্বস্তি অন্য একটি বড় কারণ হলো দিনের তাপমাত্রার পাশাপাশি রাতের তাপমাত্রাও অনেক বেড়ে গেছে এবং দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য কমে এসেছে। উদাহরণস্বরূপ, গত রাতে ঢাকায় তাপমাত্রা ছিল ২৯.৩ বা ২৯.৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস। সাধারণত রাতের তাপমাত্রা ২৭ ডিগ্রির নিচে থাকলে মানুষ আরাম বোধ করে, কিন্তু এখন রাত শেষ হওয়ার আগেই পুনরায় গরম শুরু হয়ে যাচ্ছে, ফলে শরীর ঠান্ডা হওয়ার পর্যাপ্ত সময় পাচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, বৃষ্টিপাত ও মৌসুমি বায়ুর পূর্বাভাস তাপমাত্রা সহনশীল পর্যায়ে আসার জন্য বিস্তীর্ণ এলাকায় প্রচুর বৃষ্টিপাত প্রয়োজন, কারণ অল্প সময়ের অল্প বৃষ্টিতে তাপমাত্রা কমে না। সাধারণত জুনের প্রথম দশকে মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশে প্রবেশ করে। আশা করা হচ্ছে যে, এবার ৭ থেকে ১০ জুনের মধ্যে মৌসুমি বায়ু চলে আসবে এবং তখন তাপমাত্রা অনেকটা সহনশীল হবে।
তরিফুল নেওয়াজ কবীর বলেন, অঞ্চলভেদে আবহাওয়ার পরিবর্তন মৌসুমি বায়ু আসার আগে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির ফলে দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বিশেষ করে ময়মনসিংহ, রংপুর ও সিলেটে তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে। তবে পশ্চিমাঞ্চল যেমন রাজশাহী, খুলনা এবং বরিশালের কিছু অংশে তাপমাত্রা কমতে কিছুটা সময় নেবে, কারণ মৌসুমি বায়ু ওদিকে পৌঁছাতে একটু দেরি হয়। আজ থেকে বৃষ্টিপাত বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং এর ফলে ধীরে ধীরে তাপমাত্রা কমে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন