প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কাউখালী উপজেলার চিরাপাড়া-পারসাতুরিয়া ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় ফাজিল মাদ্রাসার সামনে নির্মাণাধীন বক্স কালভার্ট ও ৯০০ মিটার সড়কের নির্মাণ কাজ দীর্ঘ সময় ধরে সম্পন্ন হয়নি। ফলে স্থানীয় বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। প্রায় চার বছর আগে কাজটি শুরু হয় এবং এখনো শেষ হয়নি। এতে এলাকার মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, জিয়ানগর উপজেলার মেসার্স ফয়সাল এন্টারপ্রাইজ নামের একটি প্রতিষ্ঠান ১ কোটি ৩১ লাখ ৪২ হাজার টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটির কাজ বাস্তবায়নের জন্য দায়িত্ব পায়। ২০২২ সালের ১৯ অক্টোবর কাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল এবং ২০২৩ সালের ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হতে বলা হয়েছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত সড়কের পিচ ঢালাই ও বক্স কালভার্ট নির্মাণকাজ শুরু হয়নি। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
সরেজমিনে দেখা গেল, কালভার্টটি জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে রাস্তাটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে যায়। ফলে প্রতিদিন হাজারো মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৫ হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। সড়কের পাশে কেন্দ্রীয় ফাজিল মাদ্রাসা, ভূমি অফিস, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নূরানী মাদ্রাসা ও হাফিজি মাদ্রাসা রয়েছে, কিন্তু দীর্ঘকাল ধরে সড়ক ও কালভার্টটির উন্নয়নকাজ বন্ধ রয়েছে।
এলাকার বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা এস এম দুলাল হোসেন জানান, অনেক দিন ধরে সড়ক ও কালভার্টটির কোনো সংস্কার হয়নি। মূলত বৃষ্টির সময় পানি জমে চলাচল খুবই কষ্টকর হয়ে যায়। ঠিকাদার কাজ শুরু করার আগেই পুরনো ইট তুলে নেওয়ায় মানুষের দুর্ভোগ বৃদ্ধি পেয়েছে। কেন্দ্রীয় ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা হোসাইন আহমেদ বললেন, "আমাদের মাদ্রাসাটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাকেন্দ্র। কালভার্টটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় শিক্ষার্থী ও পরীক্ষার্থীদের যাতায়াতে মারাত্মক সমস্যা হচ্ছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এর দায়ভার কে নেবে?"
চিরাপাড়া-পারসাতুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লাইকুজ্জামান মিন্টু জানালেন, ঝুঁকিপূর্ণ এই সড়ক ও কালভার্টের বিষয়ে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। কিন্তু এখনো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে কাউখালী উপজেলা প্রকৌশলী ইমতিয়াজ হোসাইন রাসেল জানান, বারবার নোটিস প্রদান করেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। তাই পিরোজপুর জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে চুক্তি বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে।
কাউখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ আসাদুজ্জামান জানান, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় জনগণের ভোগান্তির বিষয়টি আমরা অবগত আছি। সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল বিভাগকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন