প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ঐতিহাসিকভাবে অন্যতম বড় দুই প্রতিদ্বন্দ্বী, আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। সেমিফাইনাল ঘিরে ফুটবল বিশ্বে তৈরি হয়েছে ব্যাপক উত্তেজনা। এই দুই দলের লড়াইয়ে ইতিহাস, আবেগ ও স্মরণীয় ঘটনার এক দীর্ঘ অধ্যায়ের পুনরাবৃত্তি হতে যাচ্ছে।
১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের দ্বৈরথের সবচেয়ে আলোচিত অধ্যায় গড়ে উঠেছিল। সেই ম্যাচে আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনা প্রথমে বিতর্কিত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোলটি করেন। পরে কয়েক মিনিটের ব্যবধানে একক নৈপুণ্যের কারণে ইংল্যান্ডের একাধিক খেলোয়াড়কে কাটিয়ে অসাধারণ একটি গোল করেন। পরে এই গোলটি শতাব্দীর সেরা গোল হিসেবে পরিচিতি পায়।
এর চার বছর পর, ১৯৯৮ বিশ্বকাপে আবারও দুই দলের দ্বৈরথ নতুন নাটকীয়তার জন্ম দেয়। সেই ম্যাচে ইংল্যান্ডের ডেভিড বেকহ্যাম আর্জেন্টিনার দিয়েগো সিমিওনের সঙ্গে সংঘর্ষের পর পায়ে আঘাত করে লাল কার্ড দেখেন। ১০ জনের ইংল্যান্ড শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নেয়। এই ঘটনাটি দুই দলের ঐতিহাসিক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নতুন এক অধ্যায় যোগ করে।
তবে এবারের লড়াইয়ে ইংল্যান্ডের সামনে থাকবেন আর্জেন্টিনার আরেক মহাতারকা লিওনেল মেসি। জাতীয় দলের হয়ে সিনিয়র পর্যায়ে এবারই প্রথমবার ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে মাঠে নামার সুযোগ পাচ্ছেন তিনি। অতীতের অনেক তারকার মতো মেসি মাঠের বিতর্কে খুব বেশি জড়াননি। তবে তার বিনয়ী আচরণ ও অসাধারণ ফুটবল দক্ষতার জন্য তিনি বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত। কিন্তু বিশ্বকাপ ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করার লড়াইয়ে আবেগ নয়, বরং পারফরম্যান্সই হবে মূল বিষয়।
আর্জেন্টিনার শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে টুর্নামেন্টজুড়ে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করছেন মেসি। ইংল্যান্ডের প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে এই অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ডকে থামানো।
সেমিফাইনালের আগে সুইডিশ কিংবদন্তি জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচও দুই দলের ঐতিহাসিক দ্বৈরথের প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন। তিনি ১৯৮৬ সালের ম্যারাডোনার বিতর্কিত হ্যান্ড অব গড গোলের কথা উল্লেখ করে ফক্স স্পোর্টসের স্টুডিওতে মেসির সাবেক বার্সা সতীর্থ হিসেবে বলেন, "ইংল্যান্ড হ্যান্ড অব গড দেখেছে। এবার তারা ঈশ্বরের বাঁ পায়ের জাদু দেখবে।"
ফুটবল ইতিহাসে মেসির ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলার সুযোগ খুব কম এসেছে। ২০০৫ সালের নভেম্বরে জেনেভায় অনুষ্ঠিত একটি প্রীতি ম্যাচে তিনি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামার কাছাকাছি ছিলেন। কিন্তু জাতীয় দলে অভিষেক ম্যাচে হাঙ্গেরির বিপক্ষে লাল কার্ড পাওয়ায় সেই ম্যাচে খেলতে পারেননি। ওই ম্যাচে আর্জেন্টিনা ৩-২ গোলে হেরেছিল।
সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে ৩-১ গোলের জয়ের পর মেসি বলেন, "ইংল্যান্ডের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে খেলা সবসময়ই বিশেষ একটি চ্যালেঞ্জ।" তিনি আরো জানান, টানা কঠিন ম্যাচের ধকল কাটিয়ে সেমিফাইনালের জন্য নিজেদের সেরা অবস্থায় প্রস্তুত করাই এখন দলের প্রধান লক্ষ্য।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন