প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
একটার পর একটা আলোচিত হত্যা ও চাঁদাবাজির ঘটনার সাথে ব্যবহৃত অত্যাধুনিক ভারী অস্ত্রের খোঁজ এখনো পায়নি পুলিশ। শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন বা ডেভিড ইমন এবং যুবদল নেতা মাসুদুল হক চৌধুরী হত্যা মামলার আসামি ইলিয়াস, যিনি ধামা ইলিয়াস নামে পরিচিত, তাদেরকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। তবে একে-৪৭, চাইনিজ রাইফেল, শটগান এবং একাধিক পিস্তলের অবস্থান এখনও নিশ্চিতভাবে পাওয়া যায়নি।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ডেভিড ইমন জিজ্ঞাসাবাদে দাবি করেছেন যে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভারী অস্ত্র হাতে তার যেসব ছবি দেখা যাচ্ছে, সেগুলো আসলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে। তবে পুলিশ তার এই দাবি যাচাই করার চেষ্টা করছে।
এদিকে, ডেভিড ইমন এবং ধামা ইলিয়াস উভয়েই জিজ্ঞাসাবাদে উল্লেখ করেছেন যে, তাদের গ্রুপের ব্যবহৃত একে-৪৭, চাইনিজ রাইফেল এবং শটগান বর্তমানে তাদের সহযোগী রায়হানের দখলে রয়েছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, রাঙ্গুনিয়ার যুবদল নেতা মাসুদুল হক চৌধুরীকে হত্যার পর শস্ত্রগুলো রায়হান সরিয়ে নিয়েছে। পুলিশ এসব তথ্যের সত্যতা যাচাই করার কাজ করছে এবং বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করছে।
গত ১৩ জুন রাউজানের পাহাড়তলী চৌমুহনী বাজারে প্রকাশ্যে গুলি করে মাসুদুল হক চৌধুরীকে হত্যা করা হয়। সিসিটিভি ফুটেজে হামলাকারীদের হাতে দুটি শটগান ও চারটি পিস্তল দেখা গিয়েছে, যদিও গ্রেপ্তারের পর সেসব অস্ত্র উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
এর আগে, চট্টগ্রাম নগরের চন্দনপুরায় শিল্পপতি মজিবুর রহমানের বাড়িতে চাঁদাবাজির উদ্দেশ্যে নামানো হামলাসহ একাধিক ঘটনার সাথে একে-৪৭, চাইনিজ রাইফেল, শটগান ও পিস্তল ব্যবহারের অভিযোগ এসেছে। এছাড়া ঢাকাইয়া আকবর ও সরোয়ার হোসেন হত্যা মামলাতেও ডেভিড ইমনের নাম বেরিয়ে এসেছে।
পুলিশ জানায়, গত ২৯ জুলাই যশোর থেকে গ্রেপ্তার হওয়ার পর ডেভিড ইমনের দেওয়া তথ্যে ফটিকছড়িতে অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি দেশীয় এলজি এবং অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হলেও কোনো ভারী অস্ত্র মেলেনি। পুলিশের ধারণা, এখনও তার নিয়ন্ত্রণে প্রায় ২০টি পিস্তল, চাইনিজ রাইফেল ও একে-৪৭ রয়েছে।
গত ২ আগস্ট আদালত ডেভিড ইমনের দুই মামলায় মোট ১০ দিনের এবং ধামা ইলিয়াসের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। এরপর তাদের মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) সিরাজুল ইসলাম বলেন, রিমান্ডে দুজনের কাছ থেকেই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে এবং সেসব তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত কার্যক্রম চলছে। তবে তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত জানানো সম্ভব নয় এবং ভারী অস্ত্র উদ্ধারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও তিনি জানান।
পুলিশের তথ্যমতে, ডেভিড ইমন, ধামা ইলিয়াস ও ছোট সাজ্জাদ ভারতে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের অনুসারী। গত এক মাসে অভিযানে সাজ্জাদ গ্রুপের ৩৭ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে তারা চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন। পুলিশ জানায়, ডেভিড ইমন আটটি হত্যা মামলাসহ মোট ১৪টি, ধামা ইলিয়াস পাঁচটি হত্যা মামলাসহ ১৮টি এবং ছোট সাজ্জাদ নয়টি হত্যা মামলাসহ ১৫টি মামলার আসামি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন