প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দেশের বিভিন্ন বন্দরে জরুরি চিকিৎসাসামগ্রী আটকে পড়ার ঘটনা ঘটছে, যা ডায়াগনস্টিক রি-অ্যাজেন্ট ও চিকিৎসা সরঞ্জাম আমদানিতে রেজিস্ট্রেশন ও অনাপত্তিপত্র (এনওসি) বাধ্যতামূলক করার ফলে হচ্ছে। সুনির্দিষ্ট বিধিমালা প্রণয়ন না করায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে, ফলে ডায়াগনস্টিক পরীক্ষা ও হাসপাতালসেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) রাজধানীর শাহবাগে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে এই বিষয়টি তুলে ধরেন ডায়াগনস্টিক রি-অ্যাজেন্ট অ্যান্ড ইকুইপমেন্ট ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিআরইটিএবি) সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম খান।
ডিআরইটিএবের নবনির্বাচিত কার্যকরী পরিষদের অভিষেক উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিআরইটিএবের প্রধান নির্বাচন কমিশনার হাবিবুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মেডিকেল ইন্সট্রুমেন্ট অ্যান্ড হসপিটাল ইকুইপমেন্ট ডিলার্স অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শরীফ উদ্দিন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক মো. জসিম উদ্দিন, বাংলাদেশ মেডিকেল ইকুইপমেন্ট ইম্পোর্টার্স অ্যান্ড সাপ্লায়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মাহমুদ হাসান এবং সাধারণ সম্পাদক মো. মাসুমুল হক। সভাপতিত্ব করেন ডিআরইটিএবের সভাপতি মোহাম্মদ জামালউদ্দিন।
হাবিবুর রহমান বলেন, "ডায়াগনস্টিক রি-অ্যাজেন্ট ও মেডিকেল সরঞ্জাম সরবরাহের সঙ্গে সরাসরি দেশের চিকিৎসাসেবা জড়িত।" তিনি আরও বলেন, "এ খাতে মান নিয়ন্ত্রণ ও যথাযথ নিয়মকানুন যেমন প্রয়োজন, তেমনি আমদানি ও অনুমোদন প্রক্রিয়ায় অযথা দীর্ঘসূত্রতা তৈরি করাও কাম্য নয়।" তিনি সকল পক্ষের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানান, যাতে মানসম্মত পণ্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে প্রয়োজনীয় সামগ্রীর সরবরাহও স্বাভাবিক থাকে।
শরীফ উদ্দিন আহমেদ মন্তব্য করেন, "মেডিকেল ইকুইপমেন্ট ও ডায়াগনস্টিক পণ্যের ক্ষেত্রে মান নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।" তিনি বলেন, "এ খাতের পণ্যের ধরন ও ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে অনুমোদন ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে বাস্তবসম্মত করতে হবে।" তিনি বিশ্বাস করেন, ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর নিয়মিত সমন্বয় থাকলে জটিলতা দ্রুত সমাধান করা সম্ভব।
জসিম উদ্দিন বলেন, "দেশে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের সঙ্গে মেডিকেল ইকুইপমেন্ট ও ডায়াগনস্টিক পণ্যের চাহিদাও বাড়ছে।" তিনি সতর্ক করেন যে, "এ খাতে আমদানিনির্ভরতা থাকায় বন্দরে পণ্য আটকে থাকা বা অনুমোদন প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হলে এর প্রভাব সরাসরি হাসপাতাল ও রোগীদের ওপর পড়তে পারে।" তাই নীতিমালা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
মাহমুদ হাসান বলেন, "ডায়াগনস্টিক রি-অ্যাজেন্ট ও মেডিকেল ডিভাইসের জন্য পৃথক ও স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা জরুরি।" তিনি উল্লেখ করেন যে, "এতে আমদানিকারকরা তাদের দায়িত্ব ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাবেন।"
মাসুমুল হক বলেন, "চিকিৎসাসামগ্রীর সরবরাহব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখার বিষয়টি জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত।" তিনি সতর্ক করেন যে, "নতুন কোনো নিয়ম কার্যকর করার আগে সংশ্লিষ্ট খাতের বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।" তিনি ব্যবসায়ী সংগঠন ও সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর মাধ্যমে এ খাতের সমস্যাগুলো কমানোর সম্ভাবনা উল্লেখ করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন